Thursday, July 25, 2013

বইঃ বিপণন বিবর্তন, অধ্যায়-পাঁচ


নেতৃত্ব ও যোগাযোগ

# নেতৃত্ব কি ?

# নেতৃত্বের ধরন

# নেটওয়ার্ক মার্কেটিং লিডারের গুণাবলী

# মাল্টিলেভেল মার্কেটিং-এ নেতাদের ভূমিকা

# যোগাযোগ কৌশল ও এর উদ্দেশ্য

নেতৃত্ব কি ?

 নেতৃত্ব শব্দের আভিধানিক অর্থ সামনে থেকে পরিচালনা করা বা পথ প্রদর্শন করা। নেতৃত্ব এমন কৌশল যার দ্বারা ছোট-বড় যে কোন দল বা সংগঠনকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়। নেতৃত্ব দ্বারা মানুষ উদ্দীপ্ত হয়, নির্দেশিত হয় ও সামর্থ্য অনুযায়ী কাজে ব্রত হয়। নেতৃত্ব সম্পর্কে খ্যাতনামা পন্ডিতদের সংজ্ঞা থেকে আরো সুস্পষ্ঠ ধারনা পতে পারি।

অধ্যাপক এইচ কুঞ্জ ও হুইরিচ এর মতে “নেতৃত্ব মানুষকে প্রভাবি করার এমন একটি কৌশল বা প্রক্রিয়া যাতে মানুষ দলীয় লক্ষ্য অর্জনে উৎসাহী হয়ে থাকে।”

অধ্যাপক রিকি , ডব্লিউ, গ্রিফিন এর মতে “নেতৃত্ব যেমন প্রক্রিয়া আবার সম্পদও বটে, সংগঠনের লোকজনকে বল প্রয়োগ ছাড়া প্রভাবিত করে আচরন পরিবর্তন ও প্রেষনা প্রদানের মাধ্যমে দলীয় লক্ষ্য অর্জনে উদ্দীপ্ত করে। সম্পদ বলতে, নেতৃত্ব হলো কিছু একক চারিত্রিক গুণাবলী যারা নিজেদের মধ্যে তা অনুভব করে।”

টি, হেইম্যান এর মতে, নেতৃত্ব এমন একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা একজন নির্বাহী কোন বিশেষ লক্ষ্য সমূহ নির্ধারন ও তা অর্জনে কার্যরত অন্যান্য কর্মীদের কার্যাবলী সহজভাবে নির্দেশনা পরিচালনা ও প্রভাবিত করে এবং ব্যক্তি ও সংগঠনের মাঝে এমন মধ্যস্থতা করে যাতে উভয়ই সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি অর্জন করে।

যিনি নেতৃত্ব প্রদান করেন তিনিই নেতা। একজন নেতার এমন কিছু অন্যান্য গুণাবলী থাকে যা তাকে সফল নেতা হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে যেমন-মোহনীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের সচেতনতা, সিদ্ধান্ত গ্রহন ও নির্দেশনায় দূরদর্শিতা, আত্মনিয়ন্ত্রন ও সংযম, উদ্যোগী, সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ, ন্যায় পারয়ণতা, সৃজনশীলতা ও সংগঠনমূলক চিন্তাশক্তি, প্রেষণামূলক কার্যক্রম ও পরের কল্যানে নিবেদিত প্রান ইত্যাদি।

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে শুধুমাত্র প্রমোশন লাভ করে নেতৃত্ব লাভ করা যায় না। ডাউন-লাইন ডিস্ট্রবিউটরদের প্রেষনা প্রদান, সহযোগিতা, শিক্ষা প্রশিক্ষন আলোচনা ও নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে নেতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করা যায়। সৃজনশীলতা ও দূরদর্শতার মাধ্যমে একজন নেতা নিজের অবস্থানকে সমুন্নত রাখতে পারে।

 নেতৃত্বের ধরন (নেটওয়ার্ক মার্কেটিংপদ্ধতিতে)

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে নেতৃত্বের ধরন অন্যান্য ক্ষেত্রের চেয়ে কিছুটা পৃথক। গতানুগতিক পদ্ধতি অনুসরনকারী প্রতিষ্ঠনগুলোতে নেতারা যেসব দায়িত্ব পালন করে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং লিডারদের দায়িত্ব এর চেয়ে বেশি। এবং যেখানে দায়িত্বপালনে লিডাররা অধিক উৎসাহবোধ করেন। নেটওর্য়াকিং লিডাররা প্রেষণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, বিক্রয়বৃদ্ধির কৌশল সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদন করে। দায়িত্ব ও কাজের ভিত্তিতে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে নেতৃত্বকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়, যেমন-

১. বিক্রয় বা নেতা (Sales Leader)

২. দলগঠনকারী নেতা (Team Building Leader)

৩. স্বপ্ন বা আশা গঠনকারী নেতা (Dream Building Leader)

৪. প্রেষণাপ্রদানকারী নেতা (Motivational Leader)

. বিক্রয় বা নেতা (Sales Leader)

Sales সেল্স লিডার বলতে সাধারণত যারা বিক্রয়ের সাথে জড়িত তাদেরকে বলা হয়। আমাদের দেশে এমন লিডার সাধারণত কম দেখা যায়। কিন্তু বর্হিবিশ্বে এমন সেল্স লিডারদের জনপ্রিয়তা বেশী। সেল্স লিডাররা সাধারণত বিভিন্ন প্রকার কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে বিক্রয় বৃদ্ধি করে থাকে। বিক্রয় বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহন করে ডিস্ট্রিবিউটরদের বিক্রয়ে উদ্ধুদ্ধ করে তারা। প্রশিক্ষণ, মিটিং ও ছোট ছোট গ্রুপ তৈরীর মাধ্যমে সেল্স প্রতিনিধি ও ডিস্ট্রিবিউটরদের লক্ষ্য নির্ধারন করে দেয়। একটি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী টিকে থাকার জন্য সেল্স লিডাররা অগ্রনী ভূমিকা পালন করে। বিশ্বখ্যাত MLM পন্ডিত Mark Rawlins এর বক্তব্য থেকে আমরা সেল্স লিডারদের গুরত্ব অনুধাবন করতে পারি, তিনি বলেন, “If you want to cheek on the health of a company look at the in come stability of the sales people and sales leader.” একজন সেল্স লিডারের জন্যই একজন নতুন ডিস্ট্রিবিউটর প্রথম কমিশন লাভ করেন। জয়েনিং এর পরপরই একজন ডিস্ট্রিবিউটর প্রশিক্ষন ব্যতীত স্পন্সরিং করতে পারে না কিন্তু সেল্স লিডারদের পরামর্শ অনুযায়ী পণ্য বিক্রয় করে কমিশন লাভ করতে পারে। একজন ডিস্ট্রিবিউটর ইতিবাচক মনোভাব গঠনের স্বার্থে প্রাথমিক পর্যায়ে বিক্রয় কমিশন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। গতানুগতিক পদ্ধতিতে একজন সেল্স ম্যানেজার কিংবা মার্কেটিং ম্যানেজার যে পরিমান উর্পাজন করতে সক্ষম হন একজন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং সেল্স লিডার তার চেয়ে অনেক বেশি আয় করতে পারেন। পাশাপাশি অন্যদেরও কমিশন প্রাপ্তি ও দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসার পথ সুগম করে।

. দলগঠনকারী নেতা (Team Building Leader)

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীর অন্যতম নেতৃত্ব প্রদানকারী হলো Team Building Leader রা। দলগঠনকারী এসব নেতারা দলগঠন ও পরিচালনায় অন্যতম পারদর্শী হয়ে থাকে। সাধারণত ডিস্ট্রিবিউটররা এককভাবে কোন কাজে অগ্রসর ওয়ার চেয়ে আপ-লাইন বা ডাউন লাইনের সহায়তায় টীম গঠন করার মাধ্যমে কাজে গতি বৃদ্ধি পায়। টীম বা দল গঠন কারা ও পরিচালনার দায়িত্ব নির্ভর করে Team Building Leader দের উপর। যারা প্রেষনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রশিক্ষন প্রদান করে। বৃহৎ দলগুলো কে ছোট ছোট দলে বা গ্রুপে ভাগ করে দলীয় লক্ষ্য অর্জনে তাগিদ দেয়া এবং তা অর্জনে সমর্থ হলে পুরষ্কার ও বোনাসের ব্যবস্থা করে

 লিডাররা, নতুন ডিস্ট্রিবিউটররা কাজ শুরু করার পর পরই তাদের প্রশিক্ষন গ্রহন, পণ্য সামগ্রী সম্পর্কিত ধারনা প্রদান, এবং স্পন্সর তৈরীর বিষয়ে ধারনা দিয়ে থাকে। পরবর্তীতে গ্রুপ তৈরী ও দল গঠনের ব্যাপারে পরামর্শ প্রদান করে Team Building Leader রা সাধারণত যেসব কাজ সম্পাদন করে নিম্নোক্ত উপায়ে সাজাতে পারি।

-ডিস্ট্রিবিউটরদের প্রাথমিক কাজ বুঝিয়ে দেয়া ও যার যার দায়িত্ব সম্পর্কে প্রত্যেককে অবহিত করা।

- সাপ্তাহিক ও মাসিক সভার মাধ্যমে দলীয় অগ্রগতি পর্যালোচনা করা।

-ইতিবাচক মনোভাব গঠনে ও প্রেষলামূলক কার্যক্রম গ্রহন।

- কর্মপরিকল্পনা তৈরী করে দায়িত্ব ও কর্তব্য বুঝিয়ে দেয়া।

- কোম্পানী কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম ও পরিবর্তন সমূহ পর্যালোচনা করা এবং এ সম্পর্কিত মনোভাব জেনে নেওয়া।

- এক একটি দলে বেশ কয়েকজন টীম লিডার ও সেল্স লিডার থাকেন, তাদের সাথে কার্যক্রম সমম্বয়সাধন করে দলীয় কর্মসূচী গ্রহন করেন Team Building Leader গণ।

. স্বপ্ন বা আশা গঠনকারী নেতা (Dream Building Leader)

স্বপ্ন হলো  লক্ষ্য নির্ধারনের পূর্বাবস্থা মানুষের আশা আকাঙ্খা চিন্তা- চেতনা, আবেগ মনোভাব থেকে জন্ম নেয় স্বপ্ন। স্বপ্ন বাস্তবে রূপদানের জন্য প্রয়োজন লক্ষ্য নির্ধারন ওপরিকল্পনা গ্রহন। প্রত্যেকেই স্বপ্ন দেখে থাকে এবং তা বাস্তবায়নে চেষ্টা করে। আশা সফলতায় রূপদানের জন্য সঠিক পরিকলপনা এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত সমূহের বাস্তবায়ন আবশ্যক, ড্রীম বিল্ডিং লিডারগণ সাধারণের মধ্যে স্বপ্ন দেখার আকাঙ্খা তৈরী করে, কারন স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদানের মাধ্যমে মানুষ পরিতৃপ্তি লাভ করে। চারদিকের নেতিবাচক পরিবেশ সত্বেও মানুষ স্বপ্ন দেখার মাধ্যমে আনন্দ খুজে পায়। দুর্লভ কে লাভ করা কেবল মানুষের পক্ষেই সম্ভব আর এ সম্ভাবনাময় তালিকায় তারাই থাকে যারা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে কাজ করে ড্রীম বিল্ডিং লিডাররা মানুষের সীমিত সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহার করে নিজের বুদ্ধি বিবেচনা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করে সে পথ বাতলে দেয়। সর্বোপরি প্রেষণা ও প্রশিক্ষনের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ইতিবাচক তৈরীতে ভূমিকা পালন করে।

. প্রেষণাপ্রদানকারী নেতা (Motivational Leader)

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর সাথে প্রেষনা শব্দটি অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। যার দরুন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিকে মুটিভেশনাল মার্কেটিং বলে। প্রেষণাদানের মাধ্যমে অত্যন্ত কঠিন কাজ সহজে সম্পাদন করা যায়। প্রেষনাদানের মাধ্যমে সাধারনের মাঝে কার্মোদ্যাম ও আকাঙ্খা সৃাষ্ট করা যায়। পরিশ্রম প্রদানে মানুষ তখনি আগ্রহী হয় যখন বিনিময়ে সে কিছু পাবে বলে নিশ্চিত হয়। প্রেষনা প্রদানকারী ক্রেতারা পরিশ্রম প্রদানপূর্বক কি অর্জন করা সম্ভব, কিভাবে সাফল্যের চরম শিখরে আরোহন করা যায় সে বিষয়ে ধারনা প্রদান করে থাকে। সাফল্য অর্জনের জন্য কর্ম পরিকল্পনা, লক্ষ্য নির্ধারন, কাজের পরিবেশ গঠন ইত্যাদি নিজেকেই গ্রহন করতে হয় আর এসব কার্যাবলী সম্পাদন সহজ হয় যখন লিডাররা প্রেষনা যুগিয়ে থাকে। ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও সাফল্য অর্জন দলীয় লক্ষ্যকে গতিশীল করে। ব্যক্তিগত উন্নয়নের স্বার্থে মুটিভেশনাল লিডারদের কার্যক্রম কেম্পানীর গতিকে আরো বেগবান করে। এভাবে মুটিভেশনাল লিডাররা প্রত্যেক সংগঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে।

 একজন সফল নেটওয়ার্ক মার্কেটিং লিডারদেরগুণাবলী

নেতৃত্ব এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে লোকজনকে উদ্ধুদ্ধ করা যায়। লক্ষ্য অর্জনে উদ্দীপনা সৃষ্টি করা, কাজের প্রতি অনুপ্রেরণা, প্রেষণাদান, ডিস্ট্রিবিউটরদের দায়িত্ব গ্রহনের সম্মতিও পালনের অঙ্গীকার কারার মাধ্যমে একজন নেতা নিজেকে সফল ভাবতে পারে। একজন নেতা তার ডাউন লাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে অনুকরনীয় হয়ে থাকে তার কাজের মাধ্যমে। প্রত্যেক নেতারা নিজস্ব কিছু গুণাবলী বা বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত যার কিছু নিম্নে তুলে ধরা হলো।

) সৃষ্টিশীল চিন্তা- চেতনা

সৃষ্টিশীল চিন্তা- চেতনা একজন নেতার অন্যতম গুন। মেধা ও মননের ছোট-বড় কাজগুলোকে সফলতার সহিত সমাধান করার মাধ্যমে সৃষ্টিশীলতার পরিচয় দেন। সাধারণত বিভিন্ন কৌশল শেখানো ও সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করা, দলীয় সিদ্ধান্ত সমূহের বাস্তবায়ন ইত্যাদি ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে নেতা তার অন্যন্য প্রতিভার পরিচয় দেন। এছাড়া স্পন্সর তৈরীর নানা কোৗশল বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল এসব কিছু একজন লিডারের কাছ থেকে ডিস্ট্রিবিউটর বা প্রতিনিধিরা সহজে অর্জন করতে পারে।

খ) ইতিবাচক মনোভাব নেটওয়ার্ক মার্কেটিং লিডারদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ইতিবাচক মনোভাব ব্যতীত কখনোই নেটওয়ার্ক মার্কেটিং লিডার হওয়া যায় না। সামান্য নেতিবাচক মনোভাবেন দরুন সম্পূর্ণ দল বা গ্রুপের লক্ষ্য বিনষ্ট হয়। লিডারদের আচরন, কথাবার্তা, প্রশিক্ষন প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ডাউন-লাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের কাজের গতি ও সাফল্যের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। মনে হাজারো সমস্যার প্রশ্ন থাকলেও মুখে এর বর্হি প্রকাশ হতে হবে বিপরীত এমনভাবে হাসতে হবে যেন সামনে অফুরন্ত সম্ভাবনা আর সাফল্যের হাতছানি। লিডারদের দৃঢ় মনোবল ও ইতিবাচক মনোভাবে ডিস্ট্রিবিউটররা শুধু অবাক হবে না বরং অনুকরন করবে প্রতিনিয়ত।

) ধৈর্য্যশীলতা

ধৈর্য্য পরীক্ষায় উত্তির্নরাই নেটওর্য়াকার। সফল নেটওয়ার্কাররাই সফল লিডার হওয়ার পথে অগ্রগামী। একজন ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে সফলতার জন্য প্রয়োজন দৃঢ় মনোবল ও কঠোর পরিশ্রম। অন্যদিকে লিডার হিসেবে সফলতার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য্যশীলতা। হাজারো প্রতিকুল অবস্থার মধ্যে নিজেকে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করা ও সফলতার শীর্ষে পৌছানোর জন্য নিবিড় প্রচেষ্ঠা ও ধৈর্য্যশীল মানসিকতা একজন লিডারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

) আত্মবিশ্বাসী

আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান মানুষ যে কোন লক্ষ্য অর্জন করতে পারে তা অর্জন করতে পারেসকল বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে। আত্মবিশ্বাসের মূলভিত্তি মানষিক দৃঢ়তা। লিডাররা এতটাই আত্নবিশ্বাসী যে তারা মানুষের মনোভাব পরিবর্তন ছাড়াও সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও পাল্টাতে সক্ষম হয়। অতীতের ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য পরিস্থিতিকে দায়ী না করে এর থেকে শিক্ষার্জন করে বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে। লিডারদের আত্মবিশ্বাস এমনই হওয়া চাই।

) সময়জ্ঞান

সময়ের গুরুত্ব ও এর সদ্ব্যবহার সম্পর্কে প্রত্যেকের জানা আছে। তবুও এ সময় জ্ঞান আমাদের অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় একজন লিডার সকাল দশটার সভা আহবান করে সকার দশটায় পনের মিনিটে উপস্থিত হয়ে ট্রাফিক জ্যামের অজুহাত দেয়ার পর তার ডাউন লাইনের কাছে তার গ্রহন যোগ্যতার মাত্রা শুন্যের কোটায় এসে পৌঁছায়। একজন নেতা সময় সম্পর্কে যতটা সচেতন তার ডিস্ট্রিবিউটরগণ ততটাই সচেতন হওয়ার চেষ্টা করে। লিডারদের কার্যক্রম ও প্রতিটি মুহুর্তের গুরুত্ব অনুধাবন করে ডিস্ট্রিবিউটররা স্বাভাবিকভাবে একধাপ এগিয়ে থাকতে চায়। সুতরাং, সময়ের ব্যাপারে কাউকে মুখে না বুঝিয়ে কাজের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিতে হবে, যে জ্ঞান লিডারদের থাকা খুবই জরুরী।

) প্রেষনা প্রদান

লিডাররা এ প্রেষণামূলক মার্কেটিং পদ্ধতির মূলস্তম্ভ। তাদের আচরণ, মনোভাব, উদ্দীপনা, ধৈর্য্য ও অন্যান্য আকর্ষনীয় মানবিক গুণাবলীর মাধ্যমে। দলীয় নেতাদের কাছ থেকে প্রেষণা লাভ করে ডিস্ট্রিবিউটররা যতটুকু উৎসাহিত হয় অন্য কোন মাধ্যম থেকে প্রেষিত হয়ে ততটা হয়না। কারণ লিডাররা তাদের কাছে দৃষ্টান্ত স্বরুপ। একজন লিডার যতবেশি প্রেষনা দানে সক্ষম তত বেশি সফলতা তার নিশ্চিত। অনার্থিক প্রেষণা আন্তরিকতা ও ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ।

ছ)     যোগাযোগের দক্ষতা

মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতিতে যোগাযোগের গুরুত্ব অপরিসীম।  তথ্র-প্রযুক্তির কারণে যোগাযোগের মাধ্যম তখন অনেক বেশি সহজ। এক একটি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক ডিস্ট্রিবিউটর এক সঙ্গে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানের সাথে দলের বা ব্যক্তির এবং দলের সাথে ব্যক্তির যোগাযোগ যত বেশি সহজ ও সরল ততবেশি মঙ্গল। লিডাররে যোগাযোগ দক্ষতার উপর ডিস্ট্রিবিউটরদের কর্মোদ্যম, অফিসমুখীতা প্রকাশ পায়। একজন লিডার প্রত্যেক প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয় এজন্য লিডারদের এমন প্রক্রিয়া চালু করতে হবে যাতে প্রত্যেকের (ডিস্ট্রিবিউটর) বা দল গ্রুপের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে। আর এই প্রক্রিয়া বা অনুশীলনের দীর্ঘস্থানীয়ত্ব নির্ভর করে নেতাদের বিচক্ষনতার উপর।

জ)    দল গঠনের সামর্থ্য

দর গঠন ও এর মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন একজন নেতার অন্যতম গুন। একাধিক ডিস্ট্রিবিউটর নিয়ে যে কেহ দলগঠন করতে পারে কিন্তু একটি সুসংগঠিত ও সুনিয়ন্ত্রিত দল গঠন এবং এর মাধ্যমে সকল অগ্রযাত্রা ততটা সহজ নয়। একজন লিডার ব্যক্তিক শক্তিকে, সৃজনশীলতাকে যখন দলীয় কাজে লাগিয়ে প্রত্যেকের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে তখন দলগঠনের সাফল্য অর্জিত হয়। আবারবড় দল বা গ্রুপকে ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে মূল দলের কাঙ্খিত ফল লাভ সম্ভব হয়।

ঝ)    সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতা

আমাদের কাছে সিদ্ধান্ত গ্রহনের বিষয়টি যতটা সহজবোধ্য মনে হয় প্রকৃতপক্ষে একজন লিডারের পক্ষে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহন ততটা সহজবোধ্য নয়। ব্যক্তিগত ও দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহন ছাড়াও অন্যকে সিদ্ধান্ত গ্রহনে অনুপ্রাণিত করা বা সহায়তা প্রদান নেতাদের অন্যতম কাজ। সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে সাফল্য যেমন সম্ভাবনাময় তেমনি ঝুঁকি ও বিদ্যমান। সামনে থেকে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহন ক্ষমতা নেতাদের একটি অন্যন্য বৈশিষ্ট্য।

উপরোক্ত গুণাবলী ছাড়াও নেটওর্য়াকিং লিডাররা আরো অনেক বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলীর অধিকারী হয়ে থাকে। সফল নেতা যেমন একই বৈশিষ্ট্যর অধিকারী নয় তেমনি সফল নেতা একইরকম সাফল্য অর্জন করতে পারে না। নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জনের জন্য- যুগে যুগে যারা সফল নেতৃত্ব প্রদান করে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তাদেরকে অধ্যয়ন আবশ্যক।

মাল্টিলেভেল মার্কেটিং নেতাদের ভূমিকা

যে কোন ক্ষেত্রে নেতাদের ভূমিকা বা অবদান অবশ্যই লক্ষ্যনীয়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ পদ্ধতিতে যে বিষয়টি আরো ব্যাপক। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ প্রশিক্ষণ প্রেষণামূলক কার্যক্রম, আলোচনা, দলীয় লক্ষ্য অর্জন কোম্পানীর বিক্রয় বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদানসহ নানাবিধ কার্যক্রমে লিডারদের ভূমিকা অনেক বেশি। ব্যক্তিগত ও দলীয় লক্ষ্য অর্জন ছাড়াও কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা ও বিপণনের নেতাদের বিচরন থাকে। একজন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং লিডারের ভূমিকা কি হওয়া উচিত তা নির্ভর করে কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা, কমিশন প্লান ও নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গীর উপর। তবে একজন লিডার সাধারণত যেসব ভূমিকা পালন করে থাকে তা নিম্নরূপে হতে পারে।

১। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং লিডার প্রতিটি কাজে অংশগ্রহন করে যেমন প্রশিক্ষন, প্রেষনা, শিক্ষা ইত্যাদি। কাজের কোন বাধ্য বাধকতা না থাকা সত্ত্বেও লিডাররা সময়োপযোগী সব কাজ সম্পন্ন করে।

২। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং লিডাররা বড়দলের বা গ্রুপের নেতৃত্ব প্রদানের জন্য অপেক্ষা করে না বরং ছোট দলগুলোকে সফলতার সহিত নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে বড় দলে রূপান্তর করে। এতে কোম্পানীর ডিস্ট্রিবিউটরশীপ যেমন বাড়তে থাকে তেমনি ডাউন-লাইনদের কাছে আস্থাভাজন হয়ে উঠেন।

৩। নেতারা নিজেদের সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে ভাবতে অধিকতর পছন্দ করে। এজন্য ডাউন লাইনের প্রতি সহযোগিতামূলক ও সহনশীল আচরন প্রদর্শন করে যাতে তারা নেতাদের অনুকরন করে। অতপর লিডার ও কোম্পানীর কার্যক্রমের প্রতি ডিস্ট্রিবিউটরদের আস্থাা বেড়ে যায়।

৪। নেতৃত্ব প্রদানের জন্য লিডাররা ডিস্ট্রিবিউটরদের উৎসাহ প্রদান করে। এতে কোম্পানীকে নেতৃত্ব অর্পনের জন্য অতিরিক্ত কার্যক্রম গ্রহন করতে হয় না। বরং লিডাররাই নতুন নেতৃত্বের সুযোগ প্রদান করে দায়িত্ব অর্পনের জন্য প্রস্তুত থাকে।

৫। সেল্স লিডাররা কোম্পানীর বিক্রয় বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ অবদান রাখে। প্রচলিত বিপণন পদ্ধতিতে একজন বিক্রয় ব্যবস্থাপক যে পরিমান বিক্রয় বাড়াতে সক্ষম হন বিক্রয়কর্মীদের সহায়তায়, একজন নেটওর্য়াকিং সেল্স লিডার দলীয় কার্যক্রম ও আলোচনার পূর্বক প্রেষনাদানের মাধ্যমে এর চেয়ে বেশি বিক্রয় করতে সক্ষম হন।

৬। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর লিডাররা কোম্পানীর পণ্য ও সেবা সমূহ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা রাখে। নতুন পণ্য সম্পর্কীত ধারনা ও মনোভাব কোম্পানী প্রথমত লিডারদের কাছ থেকে গ্রহন করে। অর্থাৎ ক্রেতা ও ডিস্ট্রিবিউটররা নতুন পণ্য কিভাবে গ্রহন করবে এবং সম্ভাবনা কতটুকু তা একজন লিডার অনেকটা অনুমান করতে পারে।

৭। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং লিডারগণ কোম্পানী ও ডিস্ট্রিবিউটরদের মাঝে তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে থাকে।

৮। লিডাররা সাধারণত ডাউন লাইনের অগ্রগতি সম্পর্কে সজাগ থাকে কারন ডাউন লাইনের অগ্রগতি তারনিজের অবস্থানকে আরো মৃদৃঢ় করে। নিজ ডাউন লাইন ছাড়াও অন্যান্য ডিস্ট্রিবিউটরদের পরামর্শ প্রদান ও তত্ত্ববধান করা লিডারদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মূলত লিডারদের এ ধরনের ইতিবাচক মনোভাবে দরুন কোম্পানীগুলো উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করে।

৯। লিডাররা যেমন একজন ভাল শ্রোতা তেমনি ভাল বক্তা। ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে তারা ধৈর্য্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। হাজার ও ডিস্ট্রিবিউটর এ গ্রুপ লিডারদের নানা সমস্যা ও অভিযোগের মাঝেও সঠিক পথ নির্দেশনা প্রদান করা লিডারদের একটি অন্যতম কাজ।

১০। নেটওয়ার্ক লিডাররা দায়িত্বপালনের পাশাপাশি দায়িত্ব আদায় করিয়ে নেয়াতে অভ্যস্থ। এবং তা করে প্রেষনা প্রদানের মাধ্যমে। ডিস্ট্রিবিউটররা যাতে সুচারুভাবে কাজ করতে পারে এবং পাশাপাশি অন্যদের কাজে সহযোগিতা প্রদান করতে প্রস্তুত থাকে সে ব্যাপারে লিডাররা দায়িত্ব বন্টন করে থাকে।

১১। একজন লিডার নিজ কোম্পানী সম্পর্কে স্ফটিকের ন্যয় ধারনা রাখে। আবার অন্যান্য কোম্পানী সম্পর্কেও স্বচ্ছ ধারনা রাখে। তারা কোম্পানীকে কিছু দেয়ার চেষ্টা করে। কারন তারা জানে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী থেকে দীর্ঘমেয়াদে অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব।

১২। একজন লিডার ক্রেতা ও ডিস্ট্রিবিউটরদের নিকট সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে সাধারণত প্রথম অবস্থায় ক্রেতা বা ডিস্ট্রিবিউটরগণ কোম্পানী সুনাম ও অবস্থান সম্পর্কে তেমন বেশি জানতে পারে না এক্ষেত্রে ক্রেতারা লিডারদের উপর পুরোপুরি আস্থাভাজন হয়ে কাজ আরম্ভ করে। এজন্য লিডাররা বেআইনী কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেনা বা কাউকে আহবান করে না।

 যোগাযোগ কৌশল  এর উদ্দেশ্য

প্রতিটি কোম্পানীর একটি যোগাযোগ কৌশল থাকা প্রয়োজন। কোম্পানীর পণ্য ও সেবা সামগ্রী, কোম্পানীর কমিশন প্লানও কোম্পানীর উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে এ যোগাযোগ কৌশল প্রস্তুত করা হয়। সাধারণত প্রত্যেকটি মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানীর যোগাযোগ কৌশল বা পরিকল্পনা যেসব লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য সমূহ পূরণ করতে হয় তা নিম্নরূপ।*

১। যোগাযোগ কৌশল (Comm strategy) ডিস্ট্রিবিউটরদের জন্য অবশ্যই কমব্যয় সাপেক্ষ হতে হবে।

২। কোম্পানীর সকল তথ্য ও বার্তা প্রতিনিয়ত ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে পৌঁছাতে হবে। প্রেষণা অনেকটা খাদ্যের ন্যায়, একজন এক মাসের জন্য যেমন একত্রে খাদ্যগ্রহন করতে পারে না তেমনি একমাসের সব প্রেষনা গ্রহন একদিনে সম্ভব নয়। নির্দিষ্ট সময় অন্তর লোকজনদের প্রেষিত করতে হবে।

৩। নিজ নিজ ব্যবসায় মনযোগ প্রদানার্থে ডিস্ট্রিবিউটররা যাতে সচেতন হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সাজাতে হবে।

৪। ডিস্ট্রিবিউটররা কোম্পানীর সহিত যোগাযোগ স্থাপনে যখন কোম্পানী কোন পদ্ধতি গ্রহন করে তখন তা পরিবর্তন করা জটিল হয়ে পড়ে। অতএব কোম্পানীকে তার যোগাযোগ কৌশলে সব বিষয়গুলো বিবেচনায় আনতে হবে।

৫। যোগাযোগ কৌশলে কোম্পানীকে বিভিন্নস্তরে যোগাযোগ সাধনের জন্য কিছু মাধ্যমের mgš^q ঘটাতে হয় যেমন ঃ

পত্রিকা, ম্যাগাজিন, অডিও, ভিডিও, ওয়েবসাইট এবং কনফারেন্স (স্থানীয় এলাকা ভিত্তিক, দেশীয় ও আন্তজার্তিক সভা) ইত্যাদি।

৬। ডিস্ট্রিবিউটররা তাদের ডাউন লাইনের সহিত, লিডাররা ডিস্ট্রিবিউটদের সহিত, লিডাররা কতৃপক্ষের সহিত আলোচনা ও যোগাযোগ

স্থাপন করার পর্যাপ্ত সুযোগ সংরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

গতানুগতিক ব্যবসায়িক পদ্ধতির চেয়ে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় কোম্পানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কৌশল গঠন অনেকাংশে জটিল। কারন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে ডিস্ট্রিবিউটররা বা বিক্রয়কর্মীরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করে। ফলে ফলপ্রসু যোগাযোগের জন্য রুটিনওয়ার্ক অত্যাবশ্যক। METS (Motivational Education, Training Support) ফর্মূলা যোগাযোগ কৌশলের অন্যতম মাধ্যমরূপে কাজ করে, বহুমাত্রিক বার্তার মাধ্যমে কোম্পানী বিভিন্ন শ্রেণীর শ্রোতা বলতে ক্রেতা বা ভোক্তা, বিক্রয়কর্মী বা ডিস্ট্রিবিউটর এবং লিডারদের বুঝায়। আমরা METS ফমূলা ব্যবহার করে নিম্নোক্ত উপায়ে সফলতা লাভ করতে পারব।

 মুটিভেশনাল বা প্রেষনা, এডুকেশন, ট্রেনিং ও সাপোর্ট প্রদানের মাধ্যমে কোম্পানীর লিডার, ডিস্ট্রিবিউটর, প্রসপেক্ট বা সম্ভাবনাময় ক্রেতা ও ভোক্তাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার আদায় করা যায়, কাজের প্রতি উদ্দীপনা সৃষ্টি করা যায়। যা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহনে সহায়তা করে এবং উদ্দেশ্য নির্ধারনে ভূমিকা রাখে। এর ফল স্বরুপ কোম্পানী তার সফলতা লাভ করে। পরিশেষে বলা যায়, যোগাযোগের ভিত্তি যেমন সহজে প্রবেশযোগ্য হওয়া উচিত তেমনি ব্যবহার যোগ্য। কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যন্ত যোগাযোগের মাধ্যম হবে সরাসরি যার মাধ্যমে প্রশিক্ষন, প্রেষনা, শিক্ষন সবই সফলভাবে সম্ভব।

Like this:

Like লোড হচ্ছে...

No comments:

Post a Comment