Thursday, July 25, 2013

বইঃ বিপণন বিবর্তন। অধ্যায়-দুই


অধ্যায়-দুইঃ উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও কমিশন পদ্ধতি

১.  উদ্যোক্তা হিসেবে কেন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি বেছে নিবেন।

২. সফল নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীর ভিত্তিসমূহ।

৩. নতুন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী গঠন পদ্ধতি।

৪. কমিশন প্লান কি ?

## উদ্যোক্তা হিসেবে কেন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি বেছে নিবেন।

যে কোন উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের মূল্য লক্ষ্য সবোর্চ্চ বিক্রয়ের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন। এজন্য এজন্য প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য বিভাগের ন্যায় বিপণন বিভাগও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিপণন বা মার্কেটিং বিভাগের উপর প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যত অনেকটা নির্ভরশীল। আমাদের দেশের উৎপাদন ও সেবামুখী প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই গতানুগতিক বিপণন পদ্ধতি (যা ধারাবাহিক ভাবে চলে আসছে) অনুসরন করে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি আমাদের দেশে নতুন হলেও বহিবিশ্বে এর প্রচলন শুলু হয় অর্ধশত বছর পূর্বে। উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি কোন পদ্ধতি বেছে নেবেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহনের পূর্বে অবশ্যই নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি ও চলমান বিপণন পদ্ধতি এ দুটো সম্পর্কে ভালভাবে জেনে নেয়া উচিত। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে অন্য পদ্ধতির চেয়ে কি কি বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায় তা দেখা যাক।

১। পণ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত

গতানুগতিক পদ্ধতিতে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিয়ে যখনই কোন পণ্য বাজারে আনতে চাইবেন তখনই প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজার নজরে আসবে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীগুলো পূর্বেই বাজারের একটা বড় শেয়ার দখল করে নেয় এসব কোম্পানীর সুনাম ও অবস্থান এতই মজবুত যে আপনাকে বিনিয়োগের বড় ঝুঁকি গ্রহন করতে হবে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের জন্য বড় বাজেট অবশ্যই নির্ধারন করতে হবে। অন্যদিকে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি গ্রহনের ফলে প্রতিযোগিতা মূলক বাজার আপনার পণ্যের ঝুঁকির কারণ হবে না। তবে তা নির্ভর করবে পণ্যের মান, সেবা এবং কমিশন প্লান এর উপর অর্থাৎ ক্রেতা বা ডিস্ট্রিবিউটরদের কি পরিমান লভ্যাংশ প্রদান করবেন! তার উপর।

২। বিপণন  পরিবেশন ব্যয়

যে কোন পণ্যের বিপণন ও পরিবেশন ব্যয় আবশ্যক। গতানুগতিকে পদ্ধতিতে বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবেশন বা সরবরাহের জন্য প্রতিষ্ঠানকে একটা বড় অংশ ব্যয় করতে হয়। এবং এর পাশাপাশি প্রচার কার্যক্রম চালাতে হয়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে কোম্পানীর শোরুম বা অফিস হতে সরাসরি ক্রেতা বা ডিস্ট্রিবিউটরগন পণ্য সংগ্রহ করে বিধায় এর পরিবেশন খরচ অনেক কম। ক্রেতা নিজ আয় বাড়ানোর জন্যই প্রচার করে অন্যকে পণ্য ক্রয়ে উদ্ধুদ্ধ করে।

৩। বিজ্ঞাপন খরচ সাশ্রয়

চলমান বা গতানুগতিক বিপণন পদ্ধতিতে বিজ্ঞাপন ব্যতীত পণ্য বিক্রয় প্রায় অসম্ভব। এজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভের একটা বড় অংশ ব্যয় করতে হয় বিজ্ঞাপন বাবদ যার দরুন বলা হয় প্রচারই প্রসার। কিন্তু নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন হয় না বললেই চলে। লভ্যাংশ অর্জনকারী ক্রেতাই বিজ্ঞাপনের কাজটুকু মুখে মুখে সারিয়ে দেয়। সাধারণ অর্থে বিজ্ঞাপন যে কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য অপচয় ব্যতীত কিছুই নয়। পণ্যের মোড়কে যা নির্দেশনা প্রয়োজন মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এ তাই যথেষ্ট।

৪। পন্য সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ্য

চলমান পদ্ধতিতে পণ্য সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য প্রতিষ্ঠানের সুনামের আয়োজন অথবা ব্রান্ড পরিচিতির প্রয়োজন হয়। পণ্যের চাহিদাও বাজার পরিস্থিতি নিরীক্ষা করে নতুন পণ্য বাজারে আনার পরও এর সফলতা অনিশ্চিত, অন্যদিকে মান সম্পন্ন যে কোন পণ্য মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতিতে বাজারজাত করা যায়। তবে এক্ষেত্রে পণ্যটি কমিশন প্লান সার্পোট করে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।

৫। ক্রেতার সাথে সম্পর্ক

বর্তমানে যে সব কোম্পানী বাজারে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্য বাজারজাত করছে তা কোন না কোন মধ্যস্থ কারবারীর সহযোগিতায় অর্থাৎ এক্ষেত্রে ক্রেতার সাথে প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানীর সরাসরি সম্পর্ক থাকেনা। পণ্য বা সেবা সম্পর্কিত ক্রেতার মনোভাব বুঝা যায় না তাৎক্ষণিক। অন্যদিকে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি অনুসরনকারী প্রতিষ্ঠান সরাসরি ক্রেতা বা ভোক্তার সাথে সম্পৃক্ত সাকে বিধায় ক্রেতার প্রতিক্রিয়া ও পরামর্শ গ্রহনের সুযোগ থাকে নেটওয়ার্ক পদ্ধতিতে।

৬। বিশ্বব্যাপী বাজার

গতানুগতিক বিপণন পদ্ধতিতে কোম্পানীগুলো প্রথমে একটি এলাকা বেছে নেয় এবং পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ দেশব্যাপী বাজারজাত করে কিন্তু বিশ্বব্যাপী বাজারজাত করণের জন্য যেসব বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন এবং বিনিয়োগ আবশ্যক তা সব প্রতিষ্ঠানের থাকেনা। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীগুলো অনেক সহজে বিশ্বব্যাপী ব্যবসা পরিচালনা করছে যেমন, এমওয়ে, এভন, হার্বালাইফ, এমাজন হার্ব এডভান্সড মার্কেটিং, ডনকাস্টার, ফ্রি লাইফ ইত্যাদি। এসব প্রতিষ্ঠান শুরুতে অল্প সংখ্যাক পণ্য নিয়ে যাত্রা করলেও পরবর্তীতে অসংখ্যা পণ্য অন্তভূক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের দেশের গ্রামীন, কুটির শিল্প ও পোষাকের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বহিবিশ্বে যার বাজারজাত করনের জন্য প্রয়োজন শুধু সঠিক উদ্যোগের।

৭। সামজিক সচেতনতা

বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষন বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসছে। এ সচেতনতা আরো বেশি সম্ভব নেটওয়ার্ক মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান সমূহের দ্বারা সাধারণত নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীগুলো প্রশিক্ষণ ও প্রেষণামূলক বিভিন্ন কর্মমুখী গঠন করে থাকে। ক্রেতা ও ডিস্ট্রিবিউটরদের বিভিন্ন কর্ম কৌশল ও ইতিবাচক প্রশিক্ষনের পাশাপাশি শিক্ষা নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্বের ব্যাপারে গনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে সহজেই।

পৃথিবীর বিখ্যাত কোম্পানী যেমন- আই বি এম, কোলগেট, এভন, পি এন্ড জি, ফিলিপস্, ভিটা ক্রাফ্ট কপোরেশন, ফার্মানেক্স, নিউট্রি মেট্রিক্স, হোমমেইড গরমেন্ট, গোল্ডেন গ্রাইড, ডিসকভারী টয়েজ, ক্লউডিয়া জিন কালেকশন, আবোন, মটোরোলা ইত্যাদি অসংখ্যা প্রতিষ্ঠান নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতির সাথে জড়িত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে। বিশ্বের মেধাবী উদ্যোক্তারা এ বিষয়টি গ্রহন করছেন। কারন পুরোনো ধ্যান ধারনা ও পদ্ধতি পরিবর্তন করে নতুনের দিকে হাত না বাড়ালে আধুনিক যুগে প্রতিযোগিতায় দিকে থাকা অসম্ভব। আমাদের সময় হয়েছে নতুনকে গ্রহন করার। সভ্যতার বিবর্তনের সাথে সাথে বিপণন পদ্ধতির বিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে আমাদের।

 

## সফল নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীরভিত্তিসমূহ

যেসব ভিত্তির উপর একটি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী গঠিত হয় সেগুলো হলো এর (ক) পণ্য সামগ্রী (Products) (খ) সেবা (Services) (গ) যোগাযোগ (Communication) এবং (ঘ) কমিশন পদ্ধতি (Commission), এ চারটি বিষয়ের যে কোন একটি ব্যতীত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতি পূর্ণতা লাভ করতে পারেনা। এসব বিষয়গুলো কিভাবে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতির মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করে তা নিম্নোক্ত আলোচনার মাধ্যমে অনুধাবন করতে পারব।

) পণ্য সামগ্রী (Products)ঃ যে কোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য পণ্য উৎপাদন ও বিপণন সাধারণত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতিতে ঐ সমস্ত পণ্য বাজারজাত করতে হয় যা গুনগতমান সম্পন্ন, নতুন বা একক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন।  নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীর জন্য ঐ সমস্ত পণ্যই উপযোগী যেসব পণ্য বিপণনের প্রেষনা, মিক্ষা প্রশিক্ষন ও সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। বা পণ্য লাইনের উন্নয়নের মাধ্যমে যে কোন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী সাফল্যের ভিত্তি তৈরী করতে পারে আবার নতুন পণ্যের ক্ষেত্রে তা কমিশন প্লান সার্পোট করে কিনা তা যাচাই করতে হবে। কোম্পানী ডিস্ট্রিবিউটরদের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা প্রদান করলেও যে কোন পণ্য সহজেই গ্রহণ যোগ্যতা পায়না কোম্পানী তার পণ্য লাইনে নতুন পণ্য বাড়াতে চাইলে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি নজর প্রদানকরতে হবে।

- পণ্যের মূল্য অনুযায়ী পয়েন্টস। কমিশন দেয়া যাবে কিনা।

- কমিশন প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ অর্জন করা যাবে কিনা।

- ক্রেতাদের অর্থ সামজিকি অবস্থা বিবেচনা করে পণ্যটি বিপণন যোগ্য কিনা।

- উক্ত পণ্যের জন্য কি পরিমান সময়, জ্ঞান ও শ্রম প্রদান প্রয়োজন হবে তা যাচাই করতে হবে।

- পণ্যটির বিকল্প বাজারে থাকলে তবে সে পণ্যটির বাজার অবস্থা নিরূপণ করতে হবে।

উপরোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও চাহিদা সম্পর্কে অনেকখানি নিশ্চিত হওয়া যায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহন সহজতর হবে যে পণ্যটি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ গ্রহন যোগ্যতা পাবে কিনা। পণ্যের বিশেষত্ব ও গুনাবলীর পাশাপাশি এর চাহিদার উপর দীর্ঘমেয়াদী সফলতা অর্জন করা যায়।

) সেবাসমূহ (Service) ঃ প্রচলিত বিপণন পদ্ধতিতে কোম্পানী সমূহ ক্রেতাদের বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান করে কিন্তু একজন ক্রেতা বা ভোক্তার উন্নয়নের জন্য সাধারণত অন্য কোন সেবা প্রদান করে না। অন্যদিকে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীগুলো ক্রেতা বা ভোক্তাদের উন্নয়নের জন্য বহুমূখী পদক্ষেপ গ্রহন করে থাকে। কারণ ক্রেতা ও ডিস্ট্রিবিউটরদের উন্নয়নই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন। ডিস্ট্রিবিউটরদের চাহিদা পুরনের পাশাপাশি আত্মউন্নয়নের সুযোগ প্রদান করতে হবে। সঠিক পথ নির্দেশনার মাধ্যমে জীবন যাত্রার মান বাড়াতে সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। গুনগত মান সম্পন্ন পণ্য সামগ্রীর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও প্রেষণামূলক কার্যক্রম গ্রহন করতে হবে। ডিস্ট্রিবিউটরদের কাজ করার ক্ষেত্রও যাবতীয় রসদ সরবরাহ করতে হবে। অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি মাল্টিলেভেল মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানকে আরো কিছু সেবা প্রদান অব্যহত রাখতে হয় যার ফলে প্রতিষ্ঠানের স্ব স্ব অবস্থান সমুন্নত রাখতে সহায়ক হয়।

- আলোচনা অনুষ্ঠান ও সম্মেলন (অর্ধবার্ষিক, বার্ষিক)

- প্রশিক্ষণ কার্যক্রম (শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে)

- পণ্য সামগ্রীর বিষয়ে ধারণা প্রদান (পণ্যের ব্যবহার) রক্ষণাবেক্ষন  বিশেষ্ত্ব ইত্যাদি)

- ক্রেতা ও ডিস্ট্রিবিউটরদের সমস্যা চিহ্নিতকরন ও এর সমাধান।

- এছাড়াও নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী গুলো বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহনের মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউটরদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

) যোগাযোগ (Communication)ঃযোগাযোগ নেটওয়ার্ক কোম্পানীগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারন কোন ধরনের বিজ্ঞাপন বা ক্যাম্পেইন ব্যতীত ক্রেতা বা ডিস্ট্রিবিউটররা এসব প্রতিষ্ঠানে জড়ো হয়। এ পদ্ধতিতে বিভিন্ন স্তরের লোকজন একত্রে কাজ করে এবং সাধারন মানুষের সােেথ সম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমেই ব্যবসায়িক সফলতা সম্ভব সাধারণ ডিস্ট্রিবিউটরদের সাথে লিডারদের এবং লিডারদের সহিত কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পর্ষদের যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন ও নিয়ন্ত্রন সম্ভবপর হয় একটি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানের ডিস্ট্রিবিউটর সংখ্যা যখন লক্ষ্যধিক হয় তখন কোম্পানীর নীতিগত সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা, পণ্যের প্রসার ও অন্যান্য সংবাদ প্রত্যেক ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে পৌছানো যেমন ব্যয়সাধ্য তেমনি জটিল আবার বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া যাচাই-ও ব্যয়বহুল। এজন্য যোগাযোগ কৌশল গঠন ও মাধ্যম সমূহের যথাযথ ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ডিস্ট্রিবিউটরদের সাথে যোগাযোগ অনেকক্ষেত্রে সম্ভব হয়না। আর এ সময় লিডার বা সিনিয়র ডিস্ট্র্রিবিউটরদের প্রতিক্রিয়া ও মনোভাবের মাধ্যমে কোম্পানীকে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষন করতে হয়। যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায় প্রশিক্ষণ সভা-সম্মেলন, নিজস্ব ম্যাগাজিন, প্রেষণামূলক কর্মসূচী ও ইন্টারনেট সেবা ইত্যাদি।

) কমিশন প্লান (Commission)ঃমালিটিলেভেল মার্কেটিং এর সাথে প্রচলিত বিপণন পদ্ধতির পার্থক্যের মধ্যে কমিশন প্লান অন্যতম। কমিশন প্লান এর মাধ্যমে নির্ধারিত হয় ডিস্ট্রিবিউটর বা ক্রেতাদের মাঝে কত শতাংশ লভ্যাংশ বন্টন হবে পণ্যের ধরন ও চাহিদার উপর নির্ভর করে কিমিশন প্লান। যেসব পণ্য ও সেবা সামগ্রী কোম্পানী বাজারজাত করবে তার উপর দীর্ঘমেয়াদী কমিশন প্রদান করা সম্ভব কিনা তা যাচাই করতে হবে। এছাড়াও আরও কিছু বিষয় বিবেচনায় আনতে হবে যেমন- ডিস্ট্রিবিউটরদের চাহিদা, ঐ অঞ্চলের আর্থ সামাজিক অবস্থা ও জীবন যাত্রার মান ইত্যাদি। একই পণ্যের চাহিদা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশে যেমন এক নয় তেমনি সমজাতিয় কমিশন প্লানও গ্রহনযোগ্য নয়। আমাদের দেশে একই কমিশন প্লান প্রায় সকলেই অনুসরন করে এবং কমিশন প্লান গঠন করার পর পণ্য অর্ন্তভূক্তি করতে চায়। এর ফলে কি দাঁড়ায়, এক পর্যায়ে এ পদ্ধতি পরিবর্তন করতে চায় অথবা আধুনিকায়ন করার চেষ্টা করে। কমিশন পদ্ধতি গ্রহন করার পূর্বে এ বিষয়ে পারদর্শী বিষেষক্তদের মতামত নেয়া খুবই জরুরী। বাস্তবতা বিবর্জিত ও শুধু মাত্র লোক দেখানো কমিশন পদ্ধতি দ্বারা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতির চমৎকার ধারনা ব্যহত হচ্ছে। বরং উন্নতপণ্য  সেবা সামগ্রী যেসব প্রতিষ্ঠান বাজারজাত করছে তাদের কমিশন প্লান কিছুটা অনাকর্ষনীয় হলেও প্রতিযোগিতোয় টিকে থাকতে পারবে। অবশ্যই মনে রাখতে হবে, যারা কমিশন পদ্ধতি কপি করে তাদের ব্যর্থতা অনিবার্য।

সবশেষে এটুকু বলা যায়, নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি আবিষকৃত হয়েছে মানুষের কল্যানের উদ্দেশ্যে, অর্থনীতিতে ভারসাম্য আনয়নের লক্ষ্যে ও ক্রেতা বা ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে। বর্তমান যুগে সব ধরনের প্রতিষ্ঠানই সামাজিক আন্দোলনে অংশীদার হতে চায়। এক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান এগিয়ে থাকতে নিসন্দেহে কেম্পানীর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য যে কোন পদ্ধতি অনুসরনকারী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

## নতুন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী গঠনপদ্ধতি

যে কোন পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য পণ্যসামগ্রী ক্রেতা বা ভোক্তার নিকট পৌছানো। পণ্য সেবা সামগ্রী প্রস্তুতকারী হতে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে অনেকগুলো পদ্ধতি গ্রহন করা যেতে পারে যার একটি হলো নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি। মূলত ক্রেতা বা ভোক্তাদের অধিকতর অন্তুষ্ঠির লক্ষ্যে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং অনেকাংশে এগিয়ে। গতানুগতিক বিপণন পদ্ধতিতে কেম্পানীগুলো যেসব বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে এসব ছাড়াও আরো বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হয়। নতুন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী গঠনের পূর্বে যেসব বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করতে হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হয় তা নিন্মের আলোচনা হতে ধারনা হতে লাভ করতে পারি।

) কোম্পানী পণ্য নির্ভর হবে না কমিশন নির্ভরহবেঃ প্রথমে আমাদের যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে বিবেচনায় আনতে হবে তা হলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের উপর গুরুত্বারোপ করবে না কমিশন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার উপর  গুরুত্বারোপ করবে। সাধারণত পণ্যের উপর নির্ভরশীল হতে হলে গুনগতমান সম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করতে হবে এবং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পণ্যে বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলতে হবে। মান সম্পন্ন পণ্যের পাশাপাশি বিক্রয়ত্তোর সেবা ও কমিশন প্রদান করতে হবে। আবার কমিশন নির্ভর কেম্পানীগুলোকে কমিশন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার প্রতি অধিক  গুরুত্বারোপ করতে হয়। কমিশন নির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুতকারী থেকে সরাসরি পণ্য কিনে তা বিপণন করে। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত বিশেষ কিছু পণ্য বা সেবাসামগ্রী বা সেবা সামগ্রী বাছাই করে নিতে হয়। ডিস্ট্রিবিউটর লিডার ও ব্যবস্থাপনার দক্ষ্যতার জন্যই এসব কমিশন নির্ভর প্রতিষ্ঠান পণ্য উৎপাদন না করেও টিকে থাকতে পারে। যেসব প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে পণ্য প্রস্তুত করছে কিন্তু বাজারজাত করতে পারছে না তারা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতির যে কোন একটি পদ্ধতি গ্রহন করতে পারে। আবার অনেকগুলো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্য সামগ্রী নিয়ে কমিশন নির্ভর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায়। অতএব নেটওয়ার্ক মার্কেটিং গঠনের পূর্বে অবশ্যই সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হবে এটি পণ্য নির্ভর হবে না কমিশন নির্ভর হবে।

) অর্থনৈতিক অবস্থা বিশ্লেষণঃ একটি দেশ বা অঞ্চলের জনসাধারণের অর্থনৈতিক অবস্থা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীর উপর প্রভাব ফেলে থাকে। যেমন- পণ্য সামগ্রীতে বৈচিত্র আনতে গিয়ে অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারন ডিস্ট্রিবিউটরদের নিরুৎসারিত করে আবার মূল্য কমাতে নিয়ে পণ্যের গুনগতমান সংরক্ষন করা বেশ জটিল হয়ে পড়ে। কমিশন প্লান তৈরীর সময় মাথা পিছু আয় ও জীবন যাত্রার মান বিবেচনায় আনতে হবে। যেমন, আমাদের দেশের মাথাপিছু আয় বাৎসরিক গড় আয় চারশত থেকে পাঁচশত ডলার অর্থাৎ মাসিক পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা আয় করেন এমন লোকের সংখ্যা খুব বেশি নয় এখন নতুন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী গঠনের পূর্বে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে কাদের উদ্দেশ্য করে প্লান করবে। উচ্চবিত্ত মধ্যবিত্ত, ও নিম্নমধ্যবিত্ত না নিম্নবিত্ত। যে শ্রেণীটিকে আপনি টার্গেট ঐ শ্রেণীর গড় আয়-ব্যয় শিক্ষার হার ইত্যাদি অবশ্যই বিশ্লেষণ করতে হবে। আমাদের দেশের পেক্ষাপটে যে বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ তা হলো ক্রেতাদের কোন সেল্স টার্গেট প্রদান করা যাবেনা বিশেষ করে জয়েনিং বা ব্যবসারম্ভের প্রাক্কালে। কারণ আমাদের দেশে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতির সুফল এখনো মানুষ গ্রহন করতে পারেনি গুটি কয়েক লোক ছাড়া।

) কমিশন প্লান

কমিশন প্লানের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী গুলোর উদ্দেশ্য ফুটে উঠে। মূলত কমিশন প্লান কেমন হবে তা নির্ভর করে পণ্য বা সেবা সামগ্রীর উপর। প্রথমেই কমিশন প্লান গঠন করে তা সার্পোট করানোর জন্য পণ্য বা সেবার অর্ন্তভুক্তি অনেকটা লোক দেখানো। বর্তমানে কি কি পণ্য উৎপাদন কিংবা বাজারজাত করছেন এবং ভবিষ্যতে কি কি- পণ্য সমপ্রসারণ করার ইচ্ছে আছে এর উপর নির্ভর করবে কমিশন প্লান কিরুপ হবে। যেমন নিত্য পণ্য ও জুয়েলারী বিপণনে কমিশন প্লান যেমন ভিন্নহবে তেমনি আইটি ও টেলিকম বিপণনেও কমিশনপ্লান ভিন্ন হবে। ভবিষ্যৎমুখী ও দীর্ঘমেয়াদী কমিশন প্লান ডিস্ট্রিবিউটরদের ও লিডারদের কর্ম উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে অদূর ভবিষ্যতে পরিবহন ও সংস্কারের সুযোগ রেখে কমিশন প্লান গঠন বাঞ্চনীয়। কারণ বিশ্বের খ্যাতনামা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীগুলো যখন আমাদের দেশে কার্যক্রম শুরু করবে এখন তাদের সাথে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হবে এটা প্রায় নিশ্চিত অথএব এখন থেকে সেই প্রস্তুতি গ্রহন করতে হবে।

) অভিজ্ঞ নেটওর্য়াকার নিয়োগঃ নতুন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং প্রতিষ্ঠানের জন্য অভিজ্ঞ নেটওর্য়াকার জরুরী। কোম্পানী প্রাথমিক অবস্থায় নতুন ডিস্ট্রিবিউটরদের পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকেনা বিধায় অভিজ্ঞ নেটওর্য়াকাররা তাদের দিক নির্দেশনা প্রদান করে। এছাড়া ব্যবসা পরিকল্পনা, পণ্য বিক্রয় কৌশল ও কমিশন লাভের নিয়মাবলী সংবলিত বই বা লিফলেট প্রকাশ করতে হবে। মূলত কমিশন প্লান যতটা সহজ হবে কর্মীদের জন্য এতটাই মঙ্গল নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বিশেষজ্ঞরা দক্ষ নেটওর্য়াকার তৈরি, প্রশিক্ষক ও লিডারদের পরামর্শ দান করে নতুন কোম্পানীর কার্যক্রমে মূল্য ভূমিকা পালন করে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিকে পেশা হিসেবে গ্রহনকারী নেটওর্য়াকার ও ডিস্ট্রিবিউটররা যে কোন কোম্পানীর মূল স্তম্ভ। কোম্পানী নিজস্ব উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও সহায়তামূলক কার্যক্রম গ্রহন করলেও অভিজ্ঞ নেটওর্য়াকাররাই এসব কার্যক্রমে ফলপ্রসু করতে সহায়তা করবে।

) টেকনোলজি  সফ্টওয়্যারঃ সফ্টওয়্যার এবং অন্যান্য প্রযুক্তি বর্তমানে মাল্টিলেভেল কোম্পানীগুলোর ব্যয় বহুলাংশে কমিয়ে এনেছে। সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে মার্কেটিং চ্যানেল তৈরী, ডিস্ট্রিবিউটর ম্যাজেনমেন্ট,  নিয়ন্ত্রন ও নতুন পণ্যের তালিকা প্রদর্শন ইত্যাদি অতিদ্রুত সম্ভব। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী তার চাহিদামত সফ্টওয়্যার তৈরী করবে যেমন কমিশন পদ্ধতির সফ্টওয়্যার, হিসাব নিকাশ গবেষনা ও উন্নয়নে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজ সমূহ কম্পিইটার ও সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে সহজ ও নির্ভুল ভাবে করা সম্ভব, ডিস্ট্রিবিউটরদের সহিত যোগাযোগ ও কার্যক্রমের অগ্রগতি গতিশীল করার লক্ষ্যে ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার বর্তমান প্রতিষ্ঠান সমূহের জন্য অত্যাবশ্যক। একই সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে পণ্য ক্রয়, জয়েনিং, স্পন্সরিং, কমিশন প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকলে ডিস্ট্রিবিউটররা যে কোন স্থানে বসে কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারে। এতে খুব দ্রুত প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে যেতে পারে।

) বৈধতা যাচাই করনঃ নতুন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী গঠনের প্রক্কালে আইনী  বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসার জন্য কোম্পানীর পণ্য ও সেবা সমূহ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম বৈধ কিনা যাচাই করতে হবে। পণ্যের মান নিশ্চিত করতে হবে। পিরামিড স্কীম অবৈধ ও বৈআইনী যার দরুন হাজারো মানুষ প্রতারিত হয়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিংগুলো পিরামিড স্কীম বা মানি নেম সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা উচিত। আমাদের দেশের পেক্ষাপটে পিরামিড স্কীম দিয়ে একশ্রেণীর ব্যবসায়িরা সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। এর ফলে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং প্রতিষ্ঠা এ দেশে অসম্ভব হয়ে উঠবে। ক্রেতাস্বার্থকে  প্রাধান্য প্রদান করে বৈধ নীতিমালা প্রণয়ন করে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে সাফল্য অর্জন খুবই সম্ভব।

) ব্যবস্থাপনাঃ ব্যবস্থাপনা হলো যে কোন প্রতিষ্ঠানের মূলচালিকা শক্তি। সীমিত সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহারের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জন ও টিকে থাকাইু ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে ক্রেতা ও ডিস্ট্রিবিউটররা সরাসরি সম্পৃক্ত থাকে বিধায় এখানে সুষ্ঠ ও শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা একান্ত জরুরী। বিভিন্ন বিভাগের (যেমন ক্রয়-বিক্রয়, হিসাব, কমিশন ও প্রশিক্ষণ) মাঝে সম্বন্বয় সাধনের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা বিভাগ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ব্যবস্থাপনায় কোম্পানীর নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মকতা ও কর্মচারী ছাড়াও লিডার ও অভিজ্ঞ নেটওর্য়াকারগণ অংশ গ্রহণ করে ব্যবস্থাপনাকে সুসংগঠিত ও সমোপযোগী করে তোলে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীতে যে বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ তা হলো মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা মানব সম্পদের সঠিক ব্যবহার ব্যতীত সফলতা লাভ অনিশ্চিত। ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করা ছাড়াও আরো কিছু বিভাগের প্রতি নজর দেয়া উচিত  যেমন গবেষনা ও উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগ ইত্যাদি। সর্বোপরি নতুন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী গঠনের জন্য ইতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন উদ্যোক্তা প্রয়োজন যারা অর্থের চেয়েও মানব কল্যান ও সামাজিক স্বীকৃতির জন্য কাজ করতে আগ্রহী।

## কমিশন প্লান কি ?

কমিশন বলতে বুঝায় সাধারণত পণ্য সামগ্রী ক্রয়ের বিপরীতে যে পরিমান ছাড় পাওয়া যায় তা। আবার বিক্রেতা (দোকানী) বা ভোক্তাদের উৎপাদনকারী শতকরা যে লভ্যাংশ প্রদান করে তাকেও কমিশন বলা হয়।

কমিশন প্লান হলো এমন এক ধরনের পরিকল্পনা বা কৌশল যার দ্বারা উৎপাদনকারী বা সরবরাহকারী তাদের উৎপাদিত বা সরবরাহকৃত পণ্য বা সেবা সামগ্রী বাজারজাত করনের পূর্বে মধ্যস্বত্বভোগী এবং ভোক্তাদের কি পরিমান লভ্যাংশ প্রদান করবে বা নগদ ছাড় দিবে তার পূর্ব সিদ্ধান্ত।

সাধারণত বিভিন্ন পণ্যে কি পরিমাণ কমিশন ধার্য করা হবে তা নির্ভর করে পণ্যের চাহিদা, বাজার প্রতিযোগিতা ও বিপণন নীতির উপর প্রচলিত (গতানুগতিক) পদ্ধতিতে বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান গুলো দুই থেকে বিশ শতাংশ পর্যন্ত মধ্যস্ত কারবারীদের কমিশন প্রদান করে অন্যদিকে আধুনিক ও নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে ডিস্টিবিউটর বা ক্রেতাদের দশ থেকে সত্তর শতাংশ পর্যন্ত কমিশন প্রদান করে। যে পদ্ধতি ব্যবহার করে এ কমিশন বন্টন করা হয় তাকে কমিশন পদ্ধতি বলা হয়। প্রচলিত বিপণন পদ্ধতিতে ক্ষেত্র বিশেষে ক্রেতারা কমিশন লাভ করলেও ক্রেতা বা ভোক্তাদের নিকট তা ততটা ফলপ্রসু হয় না। অন্যদিকে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে ক্রেতা বা ভোক্তা প্রাপ্ত কমিশনের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি করে জীবন যাত্রার মান বাড়াতে সমর্থ হয়। আধুনিক এ পদ্ধতিতে ক্রেতা বা ডিস্ট্রিবিউটররা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী দু’ধরনের কমিশন লাভ করতে পারে যা নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের কমিশন পদ্ধতির উপর।

দুটি ভিন্ন ধারার বিপণন পদ্ধতির কমিশন প্লান উদাহরন দ্বারা আলোচনা পূর্বক কমিশন প্লান বিষয়ে ধারনা লাভ করতে পারব। ধরা যাক সাবান প্রস্তুতকারী দুটি প্রতিষ্ঠান একই মূল্যে (ধরি ১০ টাকা) সাবান বাজারজাত করে। এর মধ্যে প্রচলিত পদ্ধতিতে বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান খুচরা বিত্রেতা ও ক্রেতাদের কি পরিমান কমিশন প্রদান করে। তা দেখা যাক

প্রচলিতপদ্ধতিতেপ্রদত্তকমিশনঃ

সাবানটির খুচরা মূল্য ১০ টাকা

মনে করি,

সাবানটির কাঁচামাল বাবদ খরচ ৬০ শতাংশ অর্থাৎ                  ৬ টাকা

সাবানটির উৎপাদন বাবদ খরচ ১০ শতাংশ অথাৎ                  ১ টাকা

বাজারজাতকরন/বিপণন বাবদ খরচ ১০ শতাংশ অথাৎ          ১ টাকা

সাবানটির বিজ্ঞাপন বাবদ খরচ ০৫ শতাংশ অর্থাৎ                  .৫ টাকা

সাবানটির বিক্রয় বাবাদ নীট লাভ ধরা হলো ০৫ শতাংশ অর্থাৎ .৫ টাকা

                                                                                       মোট – ৯ টাকা

সাবানটির খুচরা বিক্রেতার প্রাপ্ত কমিশন                                ১ টাকা

                                                              সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য -১০ টাকা

নেটওয়ার্কমার্কেটিংপ্রতিষ্ঠানেরপ্রদত্তকমিশনঃ

সাবানটির খুচরা মূল্য ১০ টাকা

সাবানটির কাঁচামাল বাবাদ খরচ ৬০ শতাংশ অর্থাৎ        ৬ টাকা

সাবানটির উৎপাদন বাবাদ খরচ ১০ শতাংশ অর্থাৎ         ১ টাকা

সাবানটির বিক্রয় বাবদ নীটলাভ ধরা হলো ৫ শতাংশ      .৫ টাকা

                                                                        মোট = ৭.৫ টাকা

সাবানটির ক্রেতা বা ভোক্তার প্রাপ্ত কমিশন                        ২.৫ টাকা

                                                           সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১০ টাকা

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে বাজারজাত করন ও বিজ্ঞাপন খরচ প্রয়োজন হয় না বিধায় এ থেকে প্রাপ্ত আয় সম্পূর্ণ অংশ কমিশন হিসেবে ক্রেতা বা ভোক্তাদের প্রদান করা যায়। আবার মধ্যস্বত্বভোগীদের সংখ্যা কমে যায় কিংবা থাকে না বিধায় ক্রেতা বা ভোক্তাদের লভ্যাংশের পরিমান বেড়ে যায়। প্রচলিত বিপণন পদ্ধতিতে মধ্যস্বত্বভোগীদের সংখ্যা বেশি থাকে বিধায় প্রায় প্রতিটি পণ্যের মূল্য বিশ থেকে চল্লিশ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। অন্যদিকে মাল্টিলেভেল পদ্ধতিতে মধ্যস্বত্ত্বভোগীর সংখ্যা সর্বোচ্চ এক হতে পারে যার দরুন প্রতিষ্ঠান ক্রেতা বা ভোক্তাদের কমিশন সহজে বাড়াতে পারে।

Like this:

Like লোড হচ্ছে...

No comments:

Post a Comment