Friday, July 26, 2013

আমরা এমএলএম এর পথ ছাড়বো না।


কি পেয়েছেন আপনি এমএলএম থেকে? টাকা, সম্মান, বন্ধুত্ব, প্রতিপত্তি । নাকি হারিয়েছেন? অর্থ, সম্মান, মর্যাদা। যদি অর্থ হারিয়ে থাকেন তবে কোন প্রতারকের পাল্লায় পড়ে এবং না বুঝে অথবা লোভের বশবতি হয়ে। দ্বিগুণ/তিনগুনের পাল্লায় পড়ে মূলধন হারিয়ে এমএলএম এর পিন্ডি উদ্ধার করছে অনেকে। শেয়ার মার্কেটে না বুঝে যেমন বিনিয়োগ করে অনেকে সর্বসান্ত হয়েছেন তেমনি প্রতারক চক্রের এমএলএম কারিশমায় পড়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হারিয়েছেন অনেকে। এর জন্য মানুষের নির্বুদ্ধিতা আর নেটওয়ার্কার নামধারী জোচ্চোররা দায়ী। ১০% স্পট আর ১০% ম্যাচিং এর জন্য নিজের আত্নীয় স্বজন, বন্ধু -বান্ধব ও প্রতিবেশীদের ডেকে নিয়ে হাতে হারিকেল ধরিয়ে দিয়েছেন। বিবেক, নীতি ও নৈতিকতা কথা ভূলে গিয়ে আমরা মানুষকে জোকের মতো চুষে খাওয়ার প্রতিযোগীতায় নেমেছি। এরপর এলো ইন্টারনেট ভিত্তিক আয়ের আরেক প্রতারণা। আমাকে একজন বললেন ৭০০ টাকা দিয়ে মেম্বার হলে প্রতি সপ্তাহে টাকা আসতে থাকে আর আপনার কাজ বসে বসে ক্লিক করা। ধোঁকাবাজদের ধোঁকাবাজি মানুষ সহজে বুঝতে পারে না। যারা ৭০০ টাকা ভাগাভাগি করে এসব ক্লিক ব্যবসায় নেমেছে তারাই পূর্ববর্তি দ্বিগুণ চক্রের হোতা কিংবা শীর্ষস্থানীয় লিডার। ঘুরেফিরে আমরা প্রতারক চক্রকেই পাব যারা সবসময়ই কোন না কোন প্রতারণার সাথে জড়িত থাকে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো- লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত যুবক -যুবতী প্রতারক চক্রের সাথে হাত মেলায় এবং তাদের গুণকীর্তণ করে স্পট আর ম্যাচিং এর আশায়। আমরা যেমন অর্থব প্রশাসনের হাতে জিম্মি তেমনই কিছু শিক্ষিত বেকার যুবকের হাতে জিম্মি যারা অর্থের লোভে গোটা জাতির কাছে এমএলএম পদ্ধতিকে ঘৃণ্য বিষয়ে পরিণত করেছে। আমাদের সচেতনতা আর নির্বুদ্ধিতার জন্যই প্রতারক চক্র বারবার সুযোগ পাচ্ছে। আমরা কি কখনও বুঝার চেষ্টা করছি যে, আমরা কাকে ঠকাচ্ছি আর কাকে ধনী বানাচ্ছি? নিজেদের কিছু লাভের জন্য আরো দশজনকে সর্বনাশের দিকে ঠেলে দেয়ার নামই কি অপরাধ নয়? অপরাধী অবশ্যই নিজে জানে সে কি অপরাধ সংগঠিত করেছে। যদি সে নিজ অপরাধ শুধরানোর সুযোগ চায় তবে প্রথমে অপরাধ স্বীকার করতে হয়, নির্বোধদের নিয়ে বড় বড় কর্মশালা আর সেমিনার আয়োজন করলেই অপরাধ ঢাকা যাবে না। ক্ষমার অনেক পথ যে কোনটি বেছে নিতে হবে। যে বিষয়টি নিয়ে মূলত লিখছিলাম, আমি এখনো এমএলএম এর পথ ছাড়িনি… শেষ পর্যন্ত ছাড়তে পারবনা। আমি কখনো হার মানিনি, কখনও মানবো না। ২০০৫ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত দেশের বেশ কিছু জেলায় প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা আছে আমার যে অভিজ্ঞতার সম্পূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে মানুষের ভালবাসা। এখনো সেই মানুষগুলোর চোখ আর অমলিন হাসি আমার স্মৃতিতে ভাসে। আমার মতে, পৃথিবীর সবচেয়ে মহৎ কাজ হলো একটি মানুষকে জাগিয়ে তোলা, একটি হতাশাগ্রস্থ মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখানো। মানুষের ভালবাসার কাছে পৃথিবীর সবকিছু অর্থহীন, যেমন অর্থহীন টাকা, ইনসেনটিভ আর প্রাডো গাড়ী। যারা শুধু অর্থের জন্য, নিজের সুখের জন্য অন্যের সম্মান, সামর্থ্য নষ্ট করে তাদের ক্ষমা নেই। সত্য এমএলএম আপনাকে তিনটি জিনিস দিবে- সম্মান, ভালবাসা ও প্রতিপত্তি। আর কি চাই মানুষের জীবনে। কিন্তু মিথ্যে এমএলএম-ও আপনাকে তিনটি জিনিস দিবে – অসম্মান, ঘৃনা ও অঢেল অর্থ। সবকিছুর আগে মানুষকে অনুভব করুন, মানুষের কাছাকছি চলে যান। আপনি জানেন না গতরাতেও আপনার নিকটতম প্রতিবেশী ‘না খেয়ে’ রাত্রি যাপন করেছে। আজ জানার পর যদি কষ্ট/লজ্জায় আপনার চোখের কোণে জল আসে তবেই আপনি মানুষ। এমএলএম এমনই কিছু শিক্ষা দেয়।

আমাদের সবাইকে মানুষ হতে হবে।

1 comment: