Thursday, July 25, 2013

বইঃ বিপণন বিবর্তন অধ্যায়-চার


চতৃর্থ অধ্যায়ঃ  প্রেষণা ও মনোভাব

  • নেটওয়ার্ক মার্কেটিং-এ প্রেষণার প্রয়োজনীয়তা
  • প্রেষণা প্রদানের কৌশল
  • মাজলোর চাহিদা তত্ত্বও মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতি
  • নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি ঃ নারীরা যেখানে এগিয়ে
  • মনোভাব কি ?
  • মনোভাভ পরিবর্তনের কৌশল

## নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ প্রেষনার প্রয়োজনীয়তা

 প্রেষনা এমন একটি বিষয় যা মানুষের আচরনে প্রভাব ফেলে এবং অনুপ্রেরনা যুগিয়ে মানুষের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নিতে সহায়তা করে। প্রেষনা মানুষকে উদ্দীপ্ত করে কাজের প্রতি আকৃষ্ট করায়, মনোবল বৃদ্ধি করে লক্ষ্য অর্জনের দিকে ধাবিত করে। জন্ম হতে মৃত্যু অবধি মানুষ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কোননা কোনভাবে প্রেষনা লাভ করে এগিয়ে যায়। মানুষ একে অন্যের প্রেষনা লাভের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এ প্রেষনা অন্যান্য ক্ষেত্র অপেক্ষা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ এ কারনে যে, এ পদ্ধতিতে ক্রেতা বা পরিবেশনগন স্বাধীনভাবে কাজ করে। অর্থাৎ যেখানে কাজের স্বাধীনতা রয়েছে সেখানে প্রেষনা অন্যতম হাতিয়ার। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ প্রেষনার প্রয়োজনীয় অনুধাবনের জন্য আমরা বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব।

. অভাব পূরন

মানুষ নিজের অভাব অনুধাবনের পর তা পূরনের চেষ্টা করে। সাধারণত মানুষ যখন অভাব পূরণ করতে পারে না তখন তা নিজের ব্যর্থতা বা অযোগ্যতা বলে মেনে নেয়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ প্রেষনামূলক কার্যক্রম মূলত ঐ সব অভাব পূরণের লক্ষ্যে ও যে সব চাহিদা পূরণ সম্ভবপর নয় নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ঐসব চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ প্রেষনামূলক কার্যক্রম ডিস্ট্রিবিউটরদের অভাব অনুধাবন ও সেসব অভাব পূরনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন উদ্ভুদ্ধ করে।

. উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য অর্জন

ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য ও দলীয় উদ্দেশ্য অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য অর্জন সম্ভব। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে একের সফলতা অর্জন অনেকাংশে নির্ভর করে অন্যের সফলতার উপর সেহেতু একে অন্যকে- সহায়তা প্রদান করে এবং লক্ষ্য অর্জনের প্রতি প্রেষনা যোগায়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য ব্যক্তিগত লক্ষ্যের উপর নির্ভরশীল বিধায় সর্বোপরি প্রেষণামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম অত্যাবশ্যক।

. দক্ষতা বৃদ্ধি

ডিস্ট্রিবিউটর বা প্রতিনিধিদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিক্রয় বৃদ্ধি করন সম্ভব্ ডিস্ট্রিবিউটর বা প্রতিনিধিদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের জন্য বিভিন্নমুখী প্রশিক্ষন ছাড়াও প্রয়োজন প্রেষনামূলক কার্যক্রম। কোম্পানী ছাড়াও নেটওয়ার্কার বা লিডাররা বিভিন্ন প্রেষণামূলক কর্মসূচী গ্রহন করে কার্যক্ষেত্রে উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি করে যা ডিস্ট্রিবিউটর বা প্রতিনিধিদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।

. দৃঢ় মনোভাব তৈরী

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বা মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতি আমাদের দেশে অনেকটাই নতুন ধারণা। নতুন পদ্ধতিটির কাজ করতে প্রয়োজন দৃঢ় মনোবল। প্রেষনা, ক্রেতা-পরিবেশক এবং প্রতিনিধিদের দৃঢ় মনোবল গঠনের সহায়তা করে। দৃঢ় মনোবল পরিবেশকদের কাজের আস্থা বৃদ্ধি করে, দলীয় কার্যক্রমের প্রতি আনুগত বৃদ্ধি করে, সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রানবন্ত পরিবেশ গঠনে ভূমিকা পালন করে।

. দায়িত্ব পালনে সম্মতি প্রদান

মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতিতে ডিস্ট্রিবিউটরদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পর তা যথাযথ ভাবে আদায় করে নেয়া বেশ কষ্টসাধ্য। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর মতো স্বাধীন ব্যবসার জোর করে কাজ করানো যেমন অসম্ভব তেমনি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনেরও সুযোগ নেই। দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পাদনের অন্যতম পন্থ প্রেষণা। প্রেষনার মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার আদায় করে নিতে হবে।

. পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি

গতানুগতিক ব্যবস্থায় কর্মচারী ও কর্মকতাগণ সকাল সন্ধা কাজ করেন এবং উপরস্থ বস্ যা আদেশ করেন তাই সম্পাদন করেন। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ একজন প্রতিনিধি নিজ ইচ্ছানুযায়ী কাজ করেন, সময় প্রদানও নির্ভর করে নিজের উপর। এক্ষেত্রে ডিস্ট্রিবিউটরদের অফিসমুখী করা এবং কাজের প্রতি উদ্ধুদ্ধ করার অন্যতম উপায় লিডার ও প্রতিনিধিদের মাঝে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে, প্রেষনা দানের মাধ্যমে।

. পরিকল্পনা বাস্তবায়ন

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ বিভিন্ন পরিকল্পনা (যেমন পণ্য ও সেবা সামগ্রী বিষয়ক পরিকল্পনা, পদ্ধতিগত পরিকল্পনা, প্রশিক্ষন পরিকল্পনা) বাস্তবায়ন সব সময় ফলপ্রসু হয় না, যদি তা ক্রেতা বা ডিস্ট্রিবিউটর সমর্থন না করেন। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রেষনামূলক কার্যক্রম ইতিবাচক ফল প্রদান করে। পরিকল্পনা গ্রহন করার সময় প্রতিনিধিদের বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় রেখে করা হয় তবুও ক্ষেত্র বিশেষে স্বল্পমেয়াদে তা ডিস্ট্রিবিউটরদের সমস্যা সৃষ্টি করলেও দীর্ঘমেয়াদে তারা অধিক লাভবান হয়ে থাকে, যা তাদের বুঝানোর জন্য প্রেষনামূলক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়।

. যোগাযোগ সফলতা

সাধারণত ডিস্ট্রিবিউটরদের সহিত লিডারদের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ গুরুত্বপূর্ণ। ডিস্ট্রিবিউটর যত বেশি লিডারদের সহিত যোগাযোগ রক্ষা করে ততটাই পজেটিভ ধরে নিতে হবে। ডিস্ট্রিবিউটরদের নিকট পদ্ধতি, পরিকল্পনা ও লিডাররা কতটুকু গ্রহনযোগ্যতা অর্জন করেছে তা অনুমান করা যায় তাদের যোগাযোগের ধরনের উপর। প্রেষিত পরিবেশক নিজেই যোগাযোগের মাধ্যম বা পথ খুঁজে নেয়।

জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রেষনা কর্মদক্ষতা ও সফলতার প্রধান উপাদান হিসেবে আর্বিভূত হয়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ প্রেষনা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে একে প্রেষনামূলক বিপণন (Motivational Marketing) ও বলা হয়ে থাকে। বর্তমানে বিশ্বে এ প্রেষনামূলক মার্কেটিং নানাক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে এ কারনে যে, এ ব্যবসায় স্বাধীনতা বিদ্যমান এবং নিজের সৃষ্টিশীলতাকে কাজে লাগানোর অন্যতম এ পদ্ধতি।

 

## প্রেষনা প্রদানের কৌশল

প্রেষনা বলতে সাধারণত লোকজনের কাছ থেকে স্বতঃফুর্তভাবে আদায় করিয়ে নেয়াকে বুঝায়। মানুষ নিজ প্রচেষ্ঠা ও শ্রম দ্বারা সাফল্যের চরম শিখরে পৌঁছাতে পারে একথা যখন ভুলতে বসে তখনই প্রেষনার প্রয়োজন হয়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ প্রেষনা প্রদানের মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউটরদের অনুপ্রানিত করা যায়। বিভিন্নভাবে ডিস্ট্রিবিউটরদের প্রেষনা প্রদান করা যায়। নিম্নোক্ত উপায়ে ডিস্ট্রিবিটরদের প্রেষিত করা অনেকাংশে সহজ।

) আর্থিক প্রেষনা

মানুষের অভাব বা চাহিদার ফলে যে তাড়নার সৃষ্টি হয় প্রেষনা সেই তাড়না পূরণ করে। আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রদানের মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউটরদের কাজে প্রতি উদ্ধুদ্ধ করা সম্ভব। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে সাপ্তাহিক বা মাসিক আয় ছাড়াও বিভিন্ন প্রকার বোনাস বা ইনসেনটিভ প্রদানের মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউটররা প্রেষিত হয়।

) মনোরম কর্ম পরিবেশ

সুন্দর ও সুষ্ঠ কর্ম পরিবেশ ডিস্ট্রিবিউটরদের কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পর্যাপ্ত আলো ও বসার স্থান কর্মীদের মনোবল বাড়ায়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানীতে হাজারো মানুষের সমাগম থাকে, যে যেই উদ্দেশ্যে আসে তাকে তা সম্পাদনের ব্যবস্থা করতে হবে পাশাপাশি ডিস্ট্রিবিউটর ও লিডারদের অস্থায়ীভাবে বসার সুযোগ প্রদান করতে হবে। এর মাধ্যমে ক্রেতা ও ডিস্ট্রিবিউটররা প্রেষিত হবে।

) শিক্ষা  প্রশিক্ষন

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং সম্পর্কে শিক্ষার্জন করে অনেক বেশি প্রেষনা লাভ করা যায়। এ সম্পর্কে যে যত বেশি জানবে তত সফলতা লাভ করবে। অনুরূপভাবে প্রশিক্ষন কার্যক্রম ডিস্ট্রিবিটরদের দিক নির্দেশনা প্রদান করে। বিক্রয় বৃদ্ধির কৌশল শেখানো ছাড়াও স্পন্সরশীপের মাধ্যমে অধিক আয়ের পথ দেখায়। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এ নতুন ব্যবসা পদ্ধতি ও প্রাপ্ত কমিশন সম্পর্কে অনেকের ধারনা কম থাকে বিধায় শিক্ষা ও প্রশিক্ষন তাদের অনুপ্রানিত করে।

) পুরষ্কার  প্রমোশন

পুরষ্কার ও প্রমোশন ডিস্ট্রিবিউটরদের প্রেষনা যোগায়। একজন ডিস্ট্রিবিউটর সফলতার সহিত একটি ধাপ অতিক্রম করার পর কেম্পানী পুরষ্কার হিসেবে প্রমোশন প্রদান করে। দীর্ঘদিন যাবত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন ও লক্ষ্য অর্জনের জন্যই প্রমোশন প্রদান করা হয় যা  নেটওর্য়াকারদের প্রেষিত করে।।

) স্বীকৃতি প্রদান

প্রত্যেক মানুষই তার কাজের স্বীকৃতি চায়। ডিস্ট্রিবিউটররা এর ব্যতিক্রম নয়, লক্ষ্য অর্জন ও সাফল্য লাভকারী ডিস্ট্রিবিউটরদের যখন কোম্পানী স্বীকৃতি প্রদান করে এখন তারা ও অন্যরা অনুপ্রানিত হয়। স্বীকৃতিস্বরুপ প্রমোশন বা আর্থিক পুরষ্কার ক্রেতাও অন্যান্য ডিস্ট্রিবিউটরদের প্রেষিত করে।

) সহযোগিতা

সহযোগিতা হাত প্রসারিত করে যে কোন মানুষকে উৎসাহিত করা যায়। ব্যক্তিগত ও দলীয় কাজে সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে লিডার ও সিনিয়র ডিস্ট্রিবিউটরগণ ক্রেতা ও ডিস্ট্রিবিউটরদের অনুপ্রানিত করতে পারে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে ডিস্ট্রিবিউটরদের কাজের প্রতি আপ-লাইন ও লিডারদের দৃষ্টি রাখা আবশ্যাক কারন এতে ডিস্ট্রিবিউটররা প্রেষিত হয়।

) প্রেষনামূলক অনুষ্ঠান

ডিস্ট্রিবিউটরদের কাজের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি ও একঘেয়েমি দূর করার জন্য বিভিন্ন প্রেষনামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যেতে পারে। যেমন- বর্ষপুর্তি অনুষ্ঠান, পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠান, নতুন পণ্য আনয়ন অনুষ্ঠান ইত্যাদি।

 

 ## মাজলোর চাহিদা সোপান তত্ত্ব মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতি

মানুষের অভাব বা প্রয়োজন অসীম। একটি অভাব পুরনের পর আরেকটি অভাব পরিলক্ষিত হয়। অর্থাৎ একটি অভাব পূরণের সাথে সাথে এর রূপ পাল্টায় এবং অপর একটি বৃহৎ অভাব দেখা দেয়। মানুষের অভাবের সহিত প্রেষনা জড়িত। আর এর উপর ভিত্তি করে A.H. Maslow যে তত্ত্ব আবিষ্কার করেছেন তাকে Maslow’s Need Hierarcly Theory বা সাফল্যের  চাহিদা সোপান তত্ত্ব বলে অভিহিত করা হয়। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতি কিভাবে মানুষকে অভাবপূরন করে তা মাজলোর চাহিদা সোপান তত্ত্বের আলোকে বিশ্লেষন করা যাক।

৫ম ধাপ                       আত্মপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজন                                          পাটনার/বিশেষক্ত

Need for sales actualization                          Partner/ Consultant

৪র্থ ধাপ                       আত্নতৃপ্তির প্রয়োজন                                          সিনিয়র লিডার/প্রশিক্ষক

Esteem Needs                                        Senior Leader/ Trainer

৩য় ধাপ              অগ্রগতি ও সামাজিক প্রয়োজন                                  গ্রুপ লিডার/টীম লিডার

Affiliation or acceptance needs                   Group leader/team leader

২য় ধাপ                      নিরাপত্তার প্রয়োজন                                           সিনিয়র ডিস্ট্রিবিউটর

                       Security or Safety Needs                                      Senior Disrtibutor

১ম ধাপ             দৈহিক বা পারিবারিক প্রয়োজন                                 ডিস্ট্রিবিউটর/বিক্রয় কর্মী

  Physiological Needs                                 Distibutor sales partne

                মাজলোর চাহিদা সোপান                               মাল্টিলেভেল মার্কেটিং স্তর (উদাহরনস্বরুপ)

. দৈহিক বা শারিরিক প্রয়োজন

মানুষের মৌলিক বা চাহিদাগুলো (যেসন খাদ্য, বস্ত্র বাসস্থান) মেটানোর মত গুরুত্বপূর্ণ অভাব সমূহ এ শ্রেণীর অন্তভূক্ত মাজলোর মতে মানুষের অভাব বা চাহিদার প্রথমস্তর দৈহিক বা শারিরিক চাহিদা পূরন। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর মাধ্যমে একজন লোকের প্রথম লক্ষ্য থাকে মৌলিক চাহিদা পূরন যা এ স্তর থেকে একজন সাধারন ডিস্ট্রিবিউটর বা বিক্রয়কর্মী সহজে পূরন করতে পারে। প্রাথমিকভাবে পণ্য ক্রয় ও বিক্রয় এবং স্পন্সরিং এর মাধ্যমে যে কমিশন লাভ করে তাতে মৌলিক প্রয়োজন মেটানো যায়। ফলে এ পর্যায়ে সে প্রেষনা লাভ করে।

. নিরাপত্তার অভাব

মৌলিক চাহিদা পূরনের পর মানুষের প্রয়োজন হয় নিরাপত্তার। মানুষ নিজেকেও তার পরিবারকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের ঝুঁকি হতে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। এজন্য স্থায়ী আয় ও সার্বিক উন্নয়ন চায় মানুষের নিরাপত্তার প্রয়োজনে। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এ একজন সিনিয়র ডিস্ট্রিবিউটর স্থায়ী আয় প্রাত্যশা করতে পারেন তার ডাউন লাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের তদারকীয় মাধ্যমে এবং পণ্য সামগ্রী বিক্রয় বৃদ্ধির মাধ্যমে। ক্রমাগত বর্ধনশীল ও দীর্ঘ মেয়াদী আয় একজন সিনিয়র ডিস্ট্রিবিউটরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

. প্রতিপত্তি ভালবাসা  সামাজিক প্রয়োজন

নিরাপত্তার অভাবপুরনের পর মানুষ অন্যদের কাছথেকে ভালবাসা ও সম্মান পেতে চায়। এ কারনে মানুষ সামাজিক ক্রিয়াকর্মে অংশগ্রহন করে ও নিজেকে সম্পৃক্ত রাখে। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসায় একজন গ্রুপ লিডার বা টিম লিডার সাধারন ডিস্ট্রিবিউটর ও সিনিয়র ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছ থেকে সম্মান লাভ করে। ডাউন-লাইন ডিস্ট্রিবিউটরদের তদারকী করার মাধ্যমে তাদেরকে আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জনে ও নিরাপত্তার প্রয়োজন মিটানোর জন্য পরামর্শ ও সুযোগ করে দেন এত করে সেবার পাশাপাশি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ পায়।

. আত্মতৃপ্তির প্রয়োজন

আত্মতৃপ্তির প্রয়োজন মানুষের যশ ও খ্যাতির সাথে সংশ্লিষ্ট এ পর্যায়ে মানুষ বিলাস বহুল জীবন যাপন করে। মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানীর সিনিয়র লিডারগণ অর্থনৈতিক যুক্তি লাভ করে। ভাবনার চেয়ে অধিক আয় করে নিজের অপূর্ব ইচ্ছেগুলো পূরণ করে। ক্রমাগত উপার্জন করে এক পর্যায়ে আত্মতৃপ্তির লক্ষ্যে যশ ও খ্যাতির অর্জনে ধাবিত হয়।

. আত্ম-প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন

নিজেকে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানুষ সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহন করে-থাকে। সাফল্যের চাহিদা সোপানের এ স্তরে মানুষ তার অন্তিম ইচ্ছা পুরনে ব্যস্ত হয়। শিল্প সাহিত্য, রাজনীতি সভাসমাবেশ ও সামাজিক কাজে ব্যাপক অংশগ্রহনের মাধ্যমে মৃত্যুর পরেও নিজেকে অমর করে রাখতে চায়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর এ পর্যায়ে একজন পার্টনার বা বিশেষজ্ঞ নিজ প্রচেষ্ঠা ও নিজেকে মানব সেবামূলক কাজে লাগানোর জন্য বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠা করে। এ পদ্ধতিকে মানব সেবার কাজে লাগানোর জন্য প্রানান্তর চেষ্টা করে। মাজলোর চাহিদা সোপান তত্ত্বের প্রত্যেকটি ধাপ বা স্তর বিশ্লেষন করে এবং নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর সহিত সামঞ্জস্যতা প্রত্যক্ষ করে আমরা এমন ধারনা পেতে পারি যে, মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতি মানুষের সব চাহিদা বা অভাব পুরনের সামর্থ্য রাখে। এবং সামাজিক মর্যাদালাভের জন্য পদ্ধতির অনুসরন অনেক ফলপ্রসু।

 

 

## নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি নারীরাযেখানে এগিয়ে

নারীরা আজ এগিয়ে চলছে পুরুষের সাথে, কোন অংশে পিছিয়ে নেই তারা। সংসার জীবন থেকে শুরু করে যুদ্ধক্ষেত্র, সর্বক্ষেত্রেই নারীদের পদচারনা লক্ষণীয়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। যেমন ধরা যাক। বিশ্বখ্যাত নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী এভন যার ডিস্ট্রিবিউটর সংখ্যা প্রায় ৪০ লক্ষ (১৪৩ দেশে) এবং এর প্রায় ৮৫ ভাগ ডিস্ট্রিবিউটর নারী। এছাড়া অন্যর্য কোম্পানী যেমন এমওয়ে কর্পোরেশন, এডভান্স মার্কেটিং সিস্টেম, সানরাইডার ইত্যাদি অসংখ্যা প্রতিষ্ঠানে নারীদের ভূমিকা উল্লেখ্যযোগ্য। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ নারীদের সাফল্যের পিছনে কিছু  কারন বিদ্যমান। যেসব কারনে উন্নতবিশ্বে নারীরা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ সফল এবং যা আমাদের দেশের নারী সমাজের জন্য অনুকরণীয়। আমাদের দেশের নারীরা পারিবারিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত কারনে নিজেদের- যোগ্যতা ও মেধা প্রকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ অংশগ্রহনের মাধ্যমে নারীর নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা প্রমানের সুযোগ পায় এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হয়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে নারীরা এগিয়ে যাওয়ার পেছনে কিছু যৌক্তিক কারন বিদ্যমান যেমন-

পারিবারিক আয়ে অংশগ্রহন

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নারীরা যেমন কাজ করার সুযোগ পায় আমাদের দেশে এ দৃশ্য অনেকটা ভিন্ন। এর কারন আমাদের পারিবারিক বাধা, কুসংস্কার এবং সামাজিক ব্যবস্থা। যে দেশের শতকরা আঁশি ভাগ লোক দরিদ্র সে দেশের পারিবারিক আয়ে মহিলাদের অংশগ্রহন অবশ্যই আর্শীবাদস্বরুপ। আর এ পারিবারিক আয়ে মহিলাদের অংশগ্রহন অনেকটা সহজ করে দেয় নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি। সহজ ও মুক্ত আয়ের অন্যতম মাধ্যম নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ যেহেতু পার্টটাইম কাজের সুযোগ রয়েছে তাই নারীদের পারিবারিক আয়ে অংশগ্রহন তাদের ইচ্ছের উপর নির্ভরশীল। উন্নত বিশ্বের নারীরা ঘরে বসেই এ ব্যবসা চালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে।

শ্রম স্বাধীনতা

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ শ্রম প্রদানে কোন বাধ্যবাধকতা থাকেনা। ইচ্ছে মত শ্রম দিয়ে আয় উপার্জন করা যায়। যত বেশি শ্রম প্রদান করা যায় তত শ্রম সফলতার লাভ করা যায়। চাকুরী কিংবা ব্যবসা এ দুটোর যে কোনটিতেই নারীরা ব্যাপকহারে অংশহগ্রহন করতে পারে না কারন নুন্যতম সময় এসবের পেছনে ব্যয় করতে হয় যা গতানুগতিক। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে সকাল-দুপুর কিংবা বিকাল যখনই হাতে সময় থাকে তখনই কাজ করার সুযোগ থাকে। যারদরুন আমাদের দেশে তো বটেই সারা বিশ্বে এ ব্যবসায় নারীরা এগিয়ে।

ব্যবসায়িক স্বাধীনতা

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং একটি স্বাধীন ব্যবসা। প্রথমত যে কেহ যে কোন কোম্পানীতে কাজ করার সুযোগ গ্রহন করতে পারেন। ব্যবসায়িক নানা সুবিধার পাশাপাশি ইচ্ছে মত যার যার দল সাজানোর সুযোগ পেয়ে থাকেন। নিজস্ব পরিকল্পনা ও কৌশল অবলম্বন করে নারীরা সর্বাধিক বিক্রয় করতে পারেন। একজন নারী তার নিকটবর্তী প্রতিষ্ঠানে কাজ করে কমিশন লাভ করতে পারে যা অন্য কোন ব্যবসা অতটা সহজ সাধ্য নয়। কারন সনাতন মার্কেটিং পদ্ধতির ন্যয় তাকে দূর দূরান্ত ঘুরে বেড়ানোর প্রয়োজন হয় না।

মেধা  যোগ্যতা প্রমানের সুযোগ

সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পরও আমাদের দেশের অধিকাংশ নারী গৃহস্থালীর কাজ ব্যতীত অন্য কিছু করার সুযোগ পায় না। মেধা ও যোগ্যতা প্রমানের জন্য প্রয়োজন সুযোগের। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি নারীদের মেধা ও যোগ্যতা প্রমানের সেই সুযোগ করে দেয়। বর্হি বিশ্বে এ সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে নারীরা প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ঈর্ষনীয় সফলতা লাভ করেছে। আমাদের দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের মেধা ও সৃষ্টি শীলতা কাজে লাগানোর অন্যতম পদ্ধতি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং যা এখনো এদেশে সাড়া জাগাতে পারেনি নারীদের পিছিয়ে থাকার কারনে।

অন্যের উপর নির্ভরতা হ্রাস

পারিবারিক ও সাংসারিক জীবনে নারীদের ভূমিকা অন্যন্য হলেও শিক্ষিতা নারী স্বামী ও সংসারের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীলতা মেনে নিতে পারে না। কিন্তু সময়ও দায়িত্বশীলতার জন্য দীর্ঘ সময়ের কোন চাকুরীও করাও সম্ভব হয় না। অতপর নিজের প্রয়োজনীয় ও পরিবারের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় করে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে ব্যবসারম্ভ করতে এবং প্রতিবেশিদের নিয়ে তিনি গ্রুপ বা দল গঠন করে আয়ের উৎস সৃষ্টি করতে পারেন যা তাকে অন্যের উপর নির্ভরতাশীলতা হতে পরিত্রান দিবে।

অবসর গ্রহনের স্বাধীনতা

নেটওর্য়াকারদের বছরের পর বছর কাজ করার প্রয়োজন হয় না, পরিকল্পিত উপায়ে লক্ষ্য অর্জনে সফল হলে যে কোন সময় অবসর হ্রহন করা যায়। নারীরা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা করার সুযোগ পায় না পারিবারিক জটিলতার দরুন সে ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদে দল গঠন করে দীর্ঘমেয়াদে তার সুফল ভোগ করতে পারে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে।

সমাজ সেবায় অংশগ্রহন

যে সব নারীগণ সমাজ সেবামূলক কাজ করতে আগ্রহী তারা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ব্যবসাকে কাজে লাগাতে পারেন। সাধারণত সহায় সম্বলহীন, বিধবা বা স্বামী পরিত্যাক্তাদের সাহায্যার্থে দীর্ঘমেয়াদী আয়ের উৎস তৈরী করে সামাজিক মর্যাদা লাভের জন্য সুযোগ তৈরী করে দিতে পারে। এসব সম্ভব শুধুমাত্র ইচ্ছা শক্তির মাধ্যমে কারন একাজে অর্থের তেমন প্রয়োজন হয় না নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে।

আমাদের চারপাশে দৃাষ্টি নিক্ষেপ করলেই তেখতে পাই হাজারো শ্রমজীবি নারীর নানাবিধ কার্যক্রম। মাঁটি কাটার কাজ থেকে শুরু করে সচিবালয়ের দায়িত্বে বর্তমান নারীদের ভূমিকা উল্লেখ যোগ্য। বলা বাহুল্য এদেশের গার্মেন্টস শিল্প ও কুঠির শিল্প টিকে আছে নারীদের অবদানের জন্য ঠিক তেমনি নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে বিশ্বব্যাপী নারীরা যেমন এগিয়ে আছে আমাদের দেশেও এগিয়ে থাকবে যা শুধু সময়ের ব্যাপারে।


## মনোভাব কি ?

মনোভাব বা Altitude মানুষের মানসিক অবস্থার বহিঃপ্রকাশ যা কোন ব্যক্তির বিশ্বাস ও অনুভূতির সহিত সম্পৃক্ত। তাই বিশ্বাস বা অনুভূতির সাহায্যে মানুষ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। অতীত অভিজ্ঞতা, ঘটনা ও শিক্ষা থেকে যে বিশ্বাস ও ধারণা জন্ম নেয় তার মাধ্যমেই মনোভাব পরিলক্ষিত হয়। সাধারণত কোন ব্যক্তির ইতিবাচক অনুকুল অথবা নেতিবাচক মনোভাবকে ইংরেজিতে Positive Altitude এবং নেতিবাচক মনোভাবকে Nagative Altitude বলে। একটি উদাহরন দ্বারা আরো পরিষ্কার ধারনা লাভ করেতে পারি। দুই ভদ্রলোক পাশাপাশি বসে সভাব বক্তব্য শুনছিলেন, প্রথম ব্যক্তি কিছুক্ষণ পর মন্তব্য করলেন এভাবে লেঅকটার (বক্তার) কন্ঠস্বর ক্যানভাসারের মতো আর হাত পা এমনভাবে নাড়ছে মনেহয় যাত্রাভিনয় করছে। অতপর দ্বিতীয় ব্যক্তি বললেন লোকটার (বক্তার) কথাগুলো যুক্তিসংগত এবং চমৎকার সামঞ্জস্যপূর্ণ এখানে লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো একই ঘটনার প্রতিক্রিয়া দু’জনের ভিন্ন। প্রথম ব্যক্তি নেতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন কারন নেতিবাচক দিকগুলো খুঁজে বের করছিলেন অন্যদিকে দ্বিতীয় ব্যক্তি মানোযোগ সহকারে বক্তব্য শুনছিলেন এবং যুক্তিগুলো ধরতে পেরেছেন কারন তিনি ইতিবাচক মনোভাবের অধিকারী।

মনোভাব সম্পর্কে বিশ্লেষণ করে আমরা নিন্মোক্ত ধারণা লাভ করতে পারি।

-মনোভাব কোন ব্যক্তির মানসিক অবস্থা যার তার বিশ্বাস, অনুভূতি ও অতীত ঘটনার উপর নির্ভর করে।

- মনোভাবের বিষয়বস্তু ব্যক্তিগত বা মানসিক হতে পারে।

- মানুষের বিশ্বাস মনোভাবের জন্মদেয় এবং শিক্ষা, প্রশিক্ষন অভিজ্ঞতা, আলোচনা সমালোচনা ইত্যাদি দ্বারা মনোভাব প্রভাবিত হয়।

- মনোভাব কোন বস্তু বা বিষয়ের পক্ষে বা বিপক্ষে সংগঠিত হয়। এবং ইতিবাচক বা নেতিবাচক উভয়ই হতে পারে।

- মানুষের বিশ্বাস যেমন পরিবর্তনশীল তেমনি অব্স্থার পরিপেক্ষিতে মনোভাবেরও পরিবর্তনশীল। যেমন নেতিবাচক মনোভাব থেকে ইতিবাচক মনোভাব এ রূপান্তর সম্ভব।

- মনোভাব পরিবর্তনের জন্য একটি পরিবেশ প্রয়োজন যেখানে একটি বিষয় সম্পর্কে শুনার পাশাপাশি দেখার ব্যবস্থা থাকবে। উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত বা উদাহরণ মনোভাব পরিবর্তন করতে সক্ষম।

 

 ## মনোভাব পরিবর্তনের কৌশল

মনোভাব মানুষের একটি মানসিক অবস্থা যা অনুভূতির উপর নির্ভর করে। পারিপাশ্বিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মনোভাব পরিবর্তন হয়। Gerald Salancik ও Jettery এর মতে Individul attitudes from overtime as a result of repeated personal experienees with ideas. situations or people. The situational giew of attitude formation suggests that stang attitudues evolve from the socielly costucted realities in which people live, such as educational, family or work siruation.”

আমাদের সমাজের নেতিবাচক বিষয়গুলো মনোভাবের উপর বিশেষ প্রভাব ফেলে থাকে। অস্থিতিশীল সামাজিক অবস্থা, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা মানুষের মনোভাব নেতিবাচক করে তুলতে প্রভাবিত করে। জন্মলগ্ন থেকে কর্মজীবন পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতিবাচক পরিবেশ আমাদের মনোভাবের পরিবর্তন ঘটিয়ে থাকে। মানুষের নেতিবাচক মনোভাব পরিবর্তন সম্ভব। নেতিবাচক মনোভাব পরিবর্তনের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশিক্ষণ

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষের ধারনা ও মূল্যবোধের পরিবর্ত ঘটাতে সক্ষম। উল্লেখ্যযোগ্য দৃষ্টান্ত কিংবা সফল ব্যক্তিত্বের উদাহরন মনোভাব উন্নতকরনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। ইতিবাচক দিকগুলো প্রশিক্ষন কার্যক্রম অন্যতম মাধ্যম। প্রশিক্ষণের ইতিবাচক দিকগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করার মাধ্যমে মানুষ পরিবেশ শেকে গ্রহনকৃত নেতিবাচক বিষয়গুলো ত্যাগ করতে সক্ষম হয।

স্বীকৃতি প্রদান

মানুষ স্বভাবতই তার কাজের স্বীকৃতি চায়। সফল কাজের স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে মনোভাবের পরিবর্তন সম্ভব। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে কাজের স্বীকৃতি প্রদানের ব্যর্থতা নেতিবাচক মনোভাব তৈরী করে। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনকারী স্বীকৃতি পাওয়ার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহনে আগ্রহী হয় এবং ইতিবাচক সাড়া দেয়। ইতিবাচক মনোভাব কাজের প্রতি অসন্তোষ, হতাশা ও কর্মদ্যোম হ্রাস ইত্যাদি দূর করতে সাহায্য করে। কারো প্রচেষ্ঠাকে ছোট করে না দেখে বরং সহযোগতামূলক আচরন প্রদর্শনের মাধ্যমে কাজের প্রতি উদ্দীপনা সৃষ্টি করা হয়।

প্রেষনামূলক কার্যক্রম

ইতিবাচক মনোভাব গঠনে প্রেষনামূলক কার্যক্রম অধিকতর কার্যকর। আর্থিক কিংবা অনার্থিক প্রেষনা দুই’ই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বা মনোভাব পরিবর্তনের সহায়ক। একজন ডিস্ট্রিবিউটর যখন লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয় তখন হতাশায় নিমজ্জিত হয়, নিজের কাজের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরী হয় যা পর্যায়ক্রমে দলীয় কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে, এক্ষেত্রে প্রেষনামূলক কার্যক্রম লক্ষ্য অর্জনে সফল হওয়ার কৌশল হিসেবে কাজ করে। এভাবে প্রেষণামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম ডিস্ট্রিবিউটরদের ইতিবাচক মনোভাব গঠনে সায়ক হয়।

অভিজ্ঞ নেতৃত্ব

লিডাররা অভিজ্ঞতার দ্বারা ডিস্ট্রিবিউটর বা ক্রেতাদের মনোভাব পরিবর্তনে সক্ষম হন। তারা জানেন কি কারনে ডিস্ট্রিবিউটররা কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। সাধারণত নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিতে কমিশন পদ্ধতি, পণ্য বা সেবা, দূর্বল ব্যভস্থাপনার দরুন ডিস্ট্রিবিউটরগণ সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকে এবং পরবর্তীতে নেতিবাচক মনোভাব পরিলক্ষিত হয়। অভিজ্ঞ লিডাররা এসব বিষয়ের সাময়িক সমাধান করতে পারেন যা ইতিবাচক মনোভাব গঠনে সহায়ক।

দলীয় কার্যক্রম

ব্যক্তির মনোভাব গঠনে দলীয় কার্যক্রম ব্যাপক প্রভাব ফেলে থাকে। দলের আদর্শ, নীতি, মূল্যবোধ, অংশগ্রহনমূলক কার্যক্রম ও দলীয় অগ্রগতি যে কোন ব্যক্তির মনোভাব পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম। দলীয় আলোচনা অনেক নেতিবাচক বিষয়ের নিষ্পত্তি ঘটায়। আবার দলীয় সাফল্য প্রত্যেকের মনোভাব উন্নয়নে ভূমিকা পালন করে।

যোগাযোগ

সাধারন ডিস্ট্রিবিউটরদের সহিত লিডারদের সার্বক্ষনিক যোগাযোগ ইতিবাচক ফল বয়ে আনে। যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধি পায়। দলীয় সিদ্ধান্তে, অংশগ্রহনের মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউটররা নিজেদের মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ পায়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এ যোগাযোগ যতটা ইতিবাচক হয় সার্বিক পরিবেশ যতটাই ফলপ্রসু হয়। এতে ডিস্ট্রিবিউটররা কাজের প্রতি অধিক মনোসংযোগ করে। যে কোন পরিবেশের নেতিবাচক দিকগুলো মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে সামজিক পেক্ষাপটে দরুন নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি আমাদের অঞ্চলে এখনো ততটা সাড়া জাগাতে পারেনি। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর বিশালতায় প্রবেশ না করে এ সম্পর্কে ধারনা পোষন করা ও মন্তব্য করা অনুচিত। মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ছাড়া এ পদ্ধতি সম্পর্কিত নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো সম্ভব নয়। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান, লিডার ডিস্ট্রিবিউটর প্রত্যেকের মনোভাব হতে হবে ইতিবাচক যা সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে সঠিক বার্তা পৌছে দিবে।

No comments:

Post a Comment