‘দাদার হাতে কলম ছিল ছুড়েঁ মেরেছে, উহ্ বড্ড লেগেছে’ এই লাইনটি এখন আমার তিন বছরের ছেলের মুখেও মাঝে মাঝে শুনি। আমার সম্মানিত সাংবাদিক দাদাদের কলমের গুতা খেতে খেতে নেটওয়ার্কারদের মুখে মুখে এখন ‘দাদার(সাংবাদিক)হাতে কলম ছিল লিখে দিয়েছে, উহ্ বড্ড ক্ষেপেছে’। দীর্ঘ দিনপর আবার আজ লিখতে মনে হলো দাদাদের লেখা পড়ে(গতকালের), যেটুকু মনের ভেতর আছে তা পুরো লিখলে হয়তো প্রশান্তি লাভ করতাম কিন্তু তা ভেতর থেকে বের হয়ে আসে না। ভাল আর মন্দের তফাৎ যে জানেনা তার লেখার অধিকার নেই, যে মন্দকে ভাল হওয়ার সুযোগ দেয়না তার বলার অধিকার নেই। এদেশে এমএলএম বন্ধের আইন হচ্ছে না, হচ্ছে এমএলএম এর নাম দিয়ে জুয়াবাজি আর প্রতারণা বন্ধের আইন। অল্প দুঃখে মানুষ কাঁদে আর অতি দুঃখে মানুষ কাঁদতে পারেনা মনে হয় বুকটা চিঁড়ে প্রানটা বেরিয়ে যাবে।যারা এমএলএমকে ভালবাসে তাদের কান্না ভেতরেই থেকে যাচ্ছে আর যারা দু’নম্বর এমএলএম করে তারা গুনগুন করে কাঁদে কারণ তারা কামাইতে পারতো ১ কোটি কিন্তু কামাইছে ১০লাখ।
ঝড়ের মতো তছনছ করে দিল আমার সব স্বপ্ন, এগার বছর ধরে লড়ছি এ এমএলএম এর জন্য। কখনো বুঝিয়ে কখনো শিখিয়ে কখনোবা লিখে। আমি দেখেছি সামান্য ক’টা টাকা কমিশন হিসেবে পেয়ে যেমন লাফ দিয়ে জড়িয়ে ধরে তা ভুলার নয়। আপনাকে উপলব্দি করতে হবে তাদের আনন্দ আর উল্লাস আর তাদের বেদনা। আমরা ভালকে যেমন উপলব্দি করতে চাইনা তেমনি খারাপকে ভালো হওয়ার সুযোগ দিইনা। এমএলএম মানে আরেকজনের গাছের কাঁঠাল চুরি করে এনে দলবদ্ধভাবে খাওয়া নয়, এমএলএম মানে নিজের কাঁঠাল সবাইকে নিয়ে খাওয়া, যেখানে খাওয়ার জন্যও ট্রেনিং নিতে হয়। যারা ইউনিপে, স্পীক এশিয়া, রেভনেক্স, ডুলেন্সার ও ডেসটিনিসহ আরো বেশ কিছু কোম্পানী করেছে তারা পুরো কাঁঠাল গাছটাকেই তুলে এনেছে যে গাছে আর কখনো ফল আসবে না। আমি এমএলএমকে দু’দলে ভাগ করেছিঃ বুঝার আর না বুঝার দল।
ক. বুঝার দলে যারা আছেন- ১. যারা এমএলএমকে ভালবাসেন
২. যারা এমএলএম এর ভাল ও খারাপ যাচাই করতে পারেন
৩. যারা এখনো ভাল কোন এমএলএম প্রতিষ্ঠানের অপেক্ষমান
৪. যারা এখনো কিছুই শুনেনি, কিছুই জানে না।
খ. না বুঝার দলে আছেন- ১. যারা এমএলএমকে ভালবাসে (শুধু টাকার জন্য)
২. যারা ভাল ও খারাপ যাচাই করে না
৩. যারা অনেকগুলো এমএলএম ফার্মের সদস্য
৪. যারা না বুঝে পত্রিকায় লিখে
আমি আবারো দুঃখ প্রকাশ করছি, সমবেদনা প্রকাশ করছি তাদের জন্য যারা এমএলএম এর নাম দিয়ে ভূয়া কিছু প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হারিয়েছে। আমরা জানি একজন মানুষ কখনো আরেক মানুষের ক্ষতির কারণ হতে পারে না একমাত্র মানুষরুপী শয়তানই তা পারে।
আমি আবারো সেইসব লিডার ও নেটওয়ার্কারদের দোষারোপ করবো যারা জেনেও না জানার ভান করছে বুঝেও না বুঝার ভান করছে। যেখানে মানুষের সামান্যতম ক্ষতির সম্ভাবনা আছে সেপথে না গেলেই কি নয়। অর্থের জন্য দশজনের ভাগের কাঁঠাল একজনের হাতে তুলে দিলেই কি লিডারের দায়িত্ব পালন হয়ে যায়। মনে রাখবেন এসব ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের দ্বায়ভার কখনো রাষ্ট্র নিবে না কারন এটা শেয়ার বাজার নয় যেখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব থেকে যায়। দু’নম্বর এমএলএম ব্যবসায় বাবার প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা এনে নামতা পড়তে পড়তে কোটিপতি হয়ে যাবার জের বাবার মৃত্যু। আসুন আমরা আরো ভাল বুঝে নিই, ভুল পথ থেকে মানুষকে দূরে রাখি, নিজের যা কিছু আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকি, পরের কল্যাণ কামনা করি, মানুষের মিষ্টি কথায় কান না দিয়ে আগে যাচাই করি, লোভ আর সুদ থেকে দূরে থাকি। আমীন।
এম. রহমান আরিফ
(বিঃদ্রঃ আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে আরো আবোল তাবোল লিখতে পারি।)
No comments:
Post a Comment