Tuesday, July 30, 2013

ব্যক্তিত্ব

ব্যক্তিত্বের পূর্ব কথা:-
আমরা জানি মানুষ বলতে মানবতা নয়; কিন্তু মানবতা বলতেই মানুষ। মনবীয় গুণে গুণান্বিত ব্যক্তিই মানবতার ধারক ও বাহক। ব্যক্তি বলতে ব্যক্তিত্ব নয়; কিন্তু ব্যক্তিত্ব বলতেই ব্যক্তি। আর তাই ব্যক্তি বলতে কোনো সাধারণ একজন মানুষকে বুঝায়।
এানুষ যেখানে ব্যক্তিত্ব ও মানবতা সেখানে। কিন্তু মানুষ যেখানে নেই; ব্যক্তিত্ব ও মানবতা সেখানে নেই। মানব জীবনের সবকটি গুণাবলীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হল ব্যক্তিত্ব ও মানবতা। আর ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘাটানোর জন্য ব্যক্তি স্বধীনতা প্রয়োজন। কারণ সুপ্ত মেধা, সুপ্ত ক্ষমতা, সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর নামই ব্যক্তিত্ব বিকাশ।
জীবন ধারণের পক্ষে যেমন খদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি অপরিহার্য তেমনি জীবন যাপনের জন্যও ব্যক্তিত্ব অপরিহার্য। ব্যক্তিত্ব বলতে আমরা সাধারণত বুঝি আমাদের নিজস্ব সত্তার যে সমস্ত গুণ আছে সেগুলোকে সুষ্ঠ বিকাশের সঠিক পথে চালানো। অর্থাৎ এক কথায় নিজস্ব গুণাবলীর প্রকৃত প্রতিফলন ঘটানো। মানব জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপেই এর প্রয়োজন রয়েছে। আবার ব্যক্তিত্ব বলতে কিন্তু উচু কণ্ঠস্বর, ভাবভঙ্গি, দৃষ্টি, চেহারা ও অস্বাভাবিক উচ্চতাকে/শরীরকে বুঝায়না।

ব্যক্তিত্ব যা

ব্যক্তিত্ব হল এমনই কোনো সীলমোহর যার ছাপ আমরা মানুষের উপর রেখে যাই। ব্যক্তিত্ব হল কার্যকরী সম্পদ।-হারর্বার্ড ক্যাশন
ব্যক্তি জীবনের ব্যক্তিত্বের সীমারেখা নির্ধারিত হয় কথাবার্তায়, আচার-আচরণে, চালচলনে, ধ্যান-ধারণায় ও মন-মানসিকতায়।
সাফল্যের চাবীকাঠি
চৌম্বক শক্তি
অগ্রণী শক্তি বা এগিয়ে নেয়ার শক্তি
মানুষের চালনা শক্তি
একটি আদর্শ, একটি দর্শন
চারিত্রিক গুণাবলী

ব্যক্তিত্ব হীনতা যা ঘটায়

ব্যক্তিত্বহীনদের আত্ম-নিয়ন্ত্রণ থাকেনা
আত্ম-নির্ভরশীল হতে পারেনা/পরনির্ভরশীল হয়ে পরে
আত্ম-জ্ঞান, আত্ম-শিক্ষা, আত্ম-উপলব্দি থাকেনা
আত্ম-বিশ্লেষণ, আত্ম-সমালোচনা, আত্ম-জিজ্ঞাসা ও আত্ম-শুদ্ধি করতে পারেনা
আত্ম-ত্যাগের মন-মানসিকতা হারিয়ে ফেলে
আত্ম-সম্মান করেনা
মানবতা লোপ পায়
ইচ্ছা, স্বপ্ন, লক্ষ্য হারায়
ভয় পায়
হীনমন্যতায় ভোগে
কর্মদক্ষতা হারায়
গর্বোপরি ব্যর্থ হয়

ব্যক্তিত্ব অর্জনের ফলে যা হয়

সমস্ত বাধা, ভয়, হীনমন্যতা, দুশ্চিন্তা, সন্দেহ, ঘৃণা, ঈর্ষা, হতাশা, ক্ষতি, ব্যর্থতা, কদর্যতা, তিক্ততা, কষ্ট, অশান্তি ইত্যাদি দূর/জয় করা যায়
প্রয়োজনের সময় কর্তৃত্বের অবস্থা দান করবে। ব্যক্তিত্বের শক্তি আপনার ধারণার বাইরে আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
গ্রহণযোগ্যতা লাভ করা যায়
প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়
প্রভাব বিস্তার করা যায়
নেতৃত্ব দেয়া যায়
জনপ্রিয় হওয়া যায়/ খ্যতি লাভ হয়
সাফল্য পাওয়া যায়
শ্রদ্ধা পাওয়া যায়
ক্ষমতা দখল করা যায়
বন্ধু লাভে সহায়ক হয়
বেচে থাকার আনন্দ পাওয়া যায়
নিজেকে জানা/ আবিষ্কার করা যায়
অন্ধভাবে ভুল করার হাত থেকে রক্ষা করবে

ব্যক্তিত্ব

আভিধানিক অর্থ-ব্যক্তি বিশেষের বৈশিষ্ট, স্বপ্রধান্য, আত্মকেন্দ্রিকতা, ব্যক্তিগত অবস্থা, বিশেষভাবে খ্যাতিমান, কোনো ব্যক্তির শারীরিক বৈশিষ্ট, স্পষ্টতা, পার্থক্য ইত্যাদি। personality, individualism, distinctness
ব্যক্তিত্ব গঠন
প্রখর বাস্তব বুদ্ধি, চতুরতা ও সহিষ্ণুতা থাকলে পুঁথিগত শিক্ষা না থাকা সত্তেও ব্যক্তিত্ব পূরণে বাধা হবে না। কারণ ব্যক্তিত্ব ধীরে ধীরে গড়ে উঠে। তার জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়।
আমাদেও সহজাত ক্ষমতাকে নমনীয় করে তুলতে হবে। নমনীয় করতে হবে তার ইচ্ছা, বাসনা, আবেগ আর কল্পনাকেও। আর এই পথধরেই ব্যক্তিত্বকে গঠন করতে হয়।

এছাড়া যা করতে হবেঃ-
তর্ক করা যাবে না (যুক্তিপূর্ণ তর্ক হতে হবে)
কথার সাথে কাজের মিল রাখা
করুনার পাত্র হওয়া যাবেনা
শুদ্ধ ভাষায় কথা বলতে হবে
নিরপেক্ষভাবে কথা বলা
একান্ত গোপন বিষয় কাউকেই বলা যাবেনা
নিজের ব্যক্তিগত বিষয়ে কাউকে নাক গলাতে দেয়া যাবেনা
অনধিকারচর্চা করা যাবে না
অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করতে হবে
জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করা
স্মার্ট হতে হবে-(স্মার্ট বলতে আমরা যা বুঝি)
-পরিচ্ছন্ন
-দক্ষ
-চটপটে
-বুদ্ধিমান
-উপস্থিত বুদ্ধিও অধিকারী
দায়িত্ব ও কর্তব্য ঠিক মত পালন করা
-মাতাপিতার প্রতি
-দেশের প্রতি

ব্যক্তিত্বের অনুভুতি/ যাদু :-

কার সাথে কথা বলছেন তিনি ভাবতে চাননা, তার কথা শুনে যান
তার চমৎকার ধৈর্য্য আছে
মানুষের সাথে মেলমেশা করতে তার কোনোরকম অসুবিধা হয়না
যেখানেই যান সেখানেই তিনি বেশ মানিয়ে চলতে পারেন
তিনি কখনই স্বার্থপর মানুষ নন
যে লোকই তার সংস্পর্শে আসে তাকেই বলতে শোনা যায় “কেমন চমৎকার মানুষ, আহা ওর মতো যদি হতে পারতাম”। এর ভিতরে অনেক কিছু আছে, জিনিয়াস ইত্যাদি ইত্যাদি।
মনোরঞ্জন করার ওই যাদু যদি আমার থাকত।

ডেল কার্নেগীর ব্যক্তিত্বের পরীক্ষা:-

একজন মানুষের সঠিক ব্যক্তিত্ব প্রকাশের চাবিকাঠি চারটি। এই চারটি বিষয় নির্ভর করেই গড়ে ওঠে যেকোনো মানুষের ব্যক্তিত্ব। যথাঃ-
১.আমরা কি করি?
২.আমাদের বাহ্যিক আকৃতি কী?
৩.আমরা কীভাবে কী কথা বলি?
৪.আমাদের সেই বলার পদ্ধতি কী রকম?

ব্যক্তিত্বের বিকাশ:-

মানুষের জ্ঞান, বিশ্বাস, আচার-আচরণ, রুচী, অভ্যাস ইত্যাদি মিলিয়ে তার ব্যক্তিত্ব। যাদেও মধ্যে মানবিক গুণের চেয়ে পাশবিক গুণ বেশি অর্থাৎ যারা চরিত্রহীন তাদেরকে ব্যক্তিত্বহীন বলা যায়। এ্যাড লারের মতে- ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ব্যক্তির প্রধান উপাদান হচ্ছে তার চরিত্র। কুপরিশেকে জয় করে যদি চরিত্রকে অক্ষত রাখা যায়, সেখানে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব সুন্দর হয়ে ফুটে উঠে।
চরিত্র বলতে বুঝায় মানবীয় ও নৈতিক গুণাবলী সমৃদ্ধ আচার ব্যবহার চাল-চলন। ব্যক্তির মূল উৎস হচ্ছে মানসিকতা। বুদ্ধি ও আবেক দ্বারাই মানসিকতা গড়ে উঠে। মানসিকতা আবার নিয়ন্ত্রিত হয় জ্ঞান দ্বারা। জ্ঞান হচ্ছে ব্যক্তিত্বের ১ম/ মূল উপাদান। যার মধ্যে জ্ঞান আছে তার মধ্যে ব্যক্তিত্ব অবশ্যই থাকবে। একারণে ব্যক্তিত্বকে সুন্দর করতে হলে জ্ঞানের সাধনা করা প্রয়োজন। ব্যক্তিত্বের ২য় অনুভূতি। যাদের অনুভূতি কম তারা সাধারণত ব্যক্তিত্বহীন হতে পারে। জ্ঞানীরা অনুভূতি সম্পন্ন বলেই মান সম্মানবোধ তাদের প্রখর। ব্যক্তিত্বকে ছোট করতে পারে এমন কাজ থেকে তারা সদা-সর্বদা বিরত থাকে।

আমরা এখন ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সম্পর্কে জানব। যেমন:- জ্ঞান, পেশাদারিত্ব,

জ্ঞান:-

১.জ্ঞান হচ্ছে অনুধাবনের ফল বা তথ্য ( তথ্যঃ- উপাত্ত (ডাটা) প্রক্রিয়াকরণের পর নির্দিষ্ট চাহিদার প্রেক্ষিতে যে সুশৃঙ্খল ফলাফল পাওয়া যায় তাকে তথ্য বলে)
২.জ্ঞান হচ্ছে নিয়মতান্ত্রিক ও বস্তুভিত্তিক বিশ্লেষণপদ্ধতি
৩.জ্ঞান হচ্ছে যুক্তিভিত্তিকভাবে আহরিত তথ্য ও তার ভিত্তিতে যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্তগ্রহণের পদ্ধতি।

জ্ঞান অর্জন করার পদ্ধতিঃ-

দোয়া ও প্রার্থনা করে
অনুভব ও অনুমানের মাধ্যমে জ্ঞানার্জন করা যায়
চিন্তাশক্তি প্রয়োগ করে
অভিজ্ঞতা থেকে
অতিত থেকে
জ্ঞানীদের সাথে মিশে
মূর্ত জগতকে দেখে
মূর্ত এবং বিমূর্ত জগত সম্পর্কে চিন্তা গবেষণা করে
শুনে ও ভ্রমণ করে
বই পড়ে-
জীবনী (হাসান আল-বান্না, ইমাম শামায়েল, আনোয়ার পাশা, ওসামা বিন লাদেন, হিটলার)
ধর্মীয় (কুরআনা, হাদীস, বাইবেল, মহাভারত)
বিখ্যাত লেখকদের লেখা (ডঃ ইউসূফ আল কার্যাভি, সাইয়েদ কুতুব, ডাঃ জাকির নায়েক)
সাধারণ জ্ঞান সম্পর্কিত বই
বিজ্ঞান ও শিক্ষামূলক সিরিজ (সাইমুম, ক্রুসেড, রিসালায়ে নূর)
টিভি দেখে (ডিসকভারি, পিস টিভি, দিগন্ত টিভি)
রেডিও শুনে (টুডে, ফুর্তি)
পত্রিকা পড়ে
-দৈনিক (আমার দেশ, নয়াদিগন্ত, ইত্তেফাক)
-সাপ্তাহিক (
-মাসিক (কিশোর কণ্ঠ, আলোর দ্বীপ, পৃথিবী, মদীনা)
নেট সার্স করে
1.http://en.wikipedia.org/wiki/Yusuf_al-Qaradawi
2.http://en.wikipedia.org/wiki/Hassan_al_Banna
3.www.irf.net
4.www.quotationspage.com
5.www.mindstools.com
6.www.telesalesprompt.co.uk
7.www.achievement.org
প্রশিক্ষণ নিয়ে
সমস্ত পেশার লোকদের সাথে মিশে

আমরা নাইটিঙ্গলের নাম জানি তিনি নার্স পেশায় বিখ্যাত হয়েছিলেন। ওসামা বিন লাদেন জঙ্গি পেশায় বিখ্যাত হয়েছিলেন। তেমনি আমি কিছু পদ্ধতি পেয়েছি সেটিই আপনাদের কাছে শেয়ার করলাম। আশাকরি আপনাদের কাজে লাগবে।

পেশাদারিত্বঃ-

নিজের স্বপ্ন লেখা ও লক্ষ নির্ধারণ করা
যে সেক্টরে কাজ করেন সেখানের দায়িত্বশীল/ লিডারদের সাথে সময় দেয়া নিজের পেশাকে বুঝার জন্য
ডিসিপ্লিন/ সিস্টেম মানা
ট্রেনিং করা বা তথ্য সংগ্রহ করা
পেশার যে কোনো মিটিংয়ে উপস্থিত থাকা
নিয়মিত অফিসে আসা
উদ্যেগী হওয়া
পেশাটাকে ভালবাসা
অফিসিয়াল টুলস সাথে রাখা (পেড, কলম, ব্যাগ, লিগ্যাল পেপার, ব্রুশিয়ার, কেটালগ ইত্যাদি)
প্রপার ড্রেসকোড
ধৈর্য ধরা ও লেগে থাকা
প্রো-একটিভ, ক্রিয়েটিভ ও লিডার হওয়া
প্ল্যান করে কাজে নেমে পড়া
অভিজ্ঞতা অর্জন করা (কিভাবে অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়)
-দীর্ঘদিন লেগে থেকে
-পরিবেশ থেকে
-প্রশিক্ষণ নিয়ে
-অপরের ভুল বা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে
-নিজের ভুল থেকে
-সব ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে
-স্ট্যামিনা/ কঠোর পরিশ্রম করে

মানসিকতাঃ-

ইমাজিনেশন করতে হবে
মেডিটেশন করতে হবে (না জানলে যে বইগুলির সহায়তা নিবেন)
১.The power of positive thinking and attitude-Remez Sasson
২.সাফল্যের চাবিকাঠি কোয়ান্টাম মেথড- মহাজাতক সহিদ আল বোখারি
৩.আত্ম উন্নয়ন-বিদ্যুৎ মিত্র
৪.নিজেকে জানো- বিদ্যুৎ মিত্র
৫.সুখ-সমৃদ্ধি- বিদ্যুৎ মিত্র
৬.আত্মসম্মোহন- বিদ্যুৎ মিত্র
৭.নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারবেননা-ডাঃ ড্যানিয়েল জি আমেন
৮.চেতনা অতিচেতনা নিরাময় ও প্রশান্তি-মহাজাতক সহিদ আল বোখারি
মটিভেশনাল বই পড়তে হবে
১.বিগব্যাঙ থেকে মানুষ-রুশো তাহের
২.ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও সাফল্যের সহজ উপায়-ডেল কার্নেগী
৩.আপনি প্রতিষ্ঠিত যদি হতে চান-ডেল কার্নেগী
৪.ধনী হতে কদিন লাগে-হারবার্ট ক্যাশন
৫.মানুষকে বাগ মানানোর কলাকৌশল-লেসলি টি গিবলিন
৬.মোরা বড় জতে চাই-আহসান হাবিব ইমরোজ
৭.সবার আগে নিজেকে গড়ো-আব্দুস্ শহীদ নাসিম
৮.ডা: লুৎফর রহমান শ্রেষ্ঠ রচনাসমগ্র
৯.বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ১০০ মনিষি-মাইকেল এইচ হার্ট
১০.দৃষ্টিভঙ্গি বদলান জীবন বদলে যাবে-গোলাম হাফিজ
১১.সফলতার রহস্য-মো: আয়াজ করিম
12.Freedom is not free-Shiv Khera
13.Living with honour-Shiv Khera
14.The 7 habits of highly effective people-Stephen R Covey
15.The magic of thinking big-David J.Schwartz Phd
16.Business school-Robert T Kiyosaki
17.Rich dad poor dad-Robert T Kiyosaki
18.Questions are the answer-Allan Pease
19.The greatest opportunity in the history of the world-John Kalench
20.Success and creativity within seven days-Garath Luis
অভিজ্ঞ, জ্ঞানী এবং উচু ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষের সাথে মিশতে হবে
যারা বড় বড় স্বপ্ন দেখে তাদের সাথে মিশতে হবে
যারা গোছালো, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য আছে, পজিটিভ, ক্রিয়েটিভ, ও প্রো-একটিভ তাদের সাথে মিশতে হবে
বড় ও প্রশস্ত রাস্তায় যেতে হবে
সমুদ্রে যেতে হবে
বড় সমাবেশ, মিছিল, মেরাথন ট্রেনিং ও বড় হাট-বাজারে যেতে হবে
মটিভেশনাল সিডি, ভিসিডি, ডিভিডি দেখতে হবে
সেলিব্রেশন প্রোগ্রামে যেতে হবে
ইনটারনেট সার্স করতে হবে
পাহার পর্বতে যেতে হবে


“দৃষ্টিভঙ্গি বদলান জীবন বদলে যাবে”

“দৃষ্টিভঙ্গি বদলান জীবন বদলে যাবে”। এই কথাটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত । কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি শব্দটি’র প্রকৃত মানে এবং ব্যাখ্যা সবার কাছে পরিস্কার কিনা আমার জানা নেই । দৃষ্টিভঙ্গি’র ইংরেজী প্রতিশব্দ attitude। কেউ যদি আপনাকে বলে আপনার অ্যাটিচিউট ঠিক করেন । তখন স্বাভাবিক ভাবে আমরা ধরে নেই যে, আমার ব্যবহার মনে হয় ঠিক করতে বলছে । কথাটি আপাত দৃষ্টিতে সত্য হলেও ‘দৃষ্টিভঙ্গি’ বিষয়টি’র ব্যপকতা ও প্রভাব অনেক। এ নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আশা করি আপনারা-ও এই বিষয়ের উপর আপনাদের লেখাগুলোও আমাদের সাথে শেয়ার করবেন ।

দৃষ্টিভঙ্গি শব্দ টি কে নানান ভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে । আমার মতে- ভিতর ও বাহির মিলে যে পূর্ণাঙ্গ মানুষ, তার প্রকাশ ভঙ্গি কে তার দৃষ্টিভঙ্গি বলে ।

সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি জীবনকে করে সুন্দর । সম্পর্কগুলোকে করে দৃঢ় । কর্মক্ষেত্রে আপনি থাকবেন সফলদের চেয়ে সফল । ব্যাক্তিগত পর্যায় থেকে শুরু করে সামাজিক তথা রাষ্ট্রিয় পর্যায়ে যেখানেই আপনি থাকেন না কেন আপনাকে এনে দিবে এক অনন্য সফলতা। আপনি যতই প্রতিকূল পরিস্থিতেই থাকেন না কেন আপনি তা উতরে যাবে অনায়াসে । রক্ষা করবে হোঁচট খাওয়া থেকে । মনে থাকবে প্রশান্তি । সহজ স্বতঃস্ফূর্ততায় আপনি এগিয়ে যাবেন সফল জীবনের পথে ।

সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিজের মাঝে ধারণ করা একটি দীর্ঘ পথ পরিক্রমার বিষয় । আপনি হয়তো জানেন- এ পৃথিবীতে পাখি জন্ম গ্রহন করেই পাখি কিংবা বানর জন্ম গ্রহন করেই বানর হয় । কিন্তু মানুষ একমাত্র জীব যা জন্মগ্রহন করেই নিজেকে মানুষ হিসেবে আত্ম প্রকাশ করতে পারে না । পাখির জন্ম গ্রহন করার পর মুক্ত আকাশে ডানা মেলে দিক থেকে দিগন্তে উড়ে বেড়ায়ে প্রমাণ করতে হয় না যে সে পাখি । মানুষকে জন্ম গ্রহন করার পর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নিজেকে ধরনীর বুকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়।

মানব শিশু যখন এ পৃথিবী আসে তখন তাকে তুলনা করা হয় ইতর শ্রেণীর প্রাণীর সঙ্গে।কারণ তখন সে মূলত ইন্দ্রীয় দ্বারা তাড়িত। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজেকে সে প্রকৃত মানুষ হিসেবে আবিস্কার করে।  আর এই ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই একেক জনের দৃষ্টি ভঙ্গি একেক ভাবে গড়ে উঠে। প্রাথমিক দৃষ্টিভঙ্গি মূলত যেই জায়গা বা প্রক্রিয়ার মধ্যে গড়ে উঠে তা হল-

১.পরিবার ।

২.প্রতিবেশী ।

৩.ধর্ম ।

২.শিক্ষা ।

৪.সমাজ ।

৫.দেশ ।

আশা করছি, আপনি উপরের যে কোন একটি বিষয় নিয়ে আপনার চিন্তাগুলো এবং আপনার দৃষ্টিভঙ্গি এর প্রভাব আমাদের সাথে শেয়ার করবেন। ভালো থাকুন।

Kazi Ashraful Islam

মানুষের কল্যাণে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং

মার্কেটিং বা বিপণনের একটি নতুন ও অনন্য আবিষ্কার মাল্টিলেভেল মার্কেটিং। আমেরিকার বিখ্যাত কেমিস্ট ডঃ কাল রেইন বোর্গ তার উৎপাদিত কৃত্রিম ভিটামিন (যা আয়োডিন ও ভিটামিন ’ এর  সংমিশ্রনে তৈরী) বাজারজাত করনের জন্য সর্বপ্রথম বহুমাত্রিক পদ্ধতি এর ধারনা প্রবর্তন করেন। পাশাপাশি ক্যালিফোনিয়া ভিটামিন,নামে একটি কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করেন যা বিশ্বের প্রথম নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কোম্পানী বলে স্বীকৃতি পায়। কারন ১৯৪০ সালের শুরুতে এটিই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যার বিক্রয় কার্যক্রম ছিল বহুস্তরে বিভক্তযে ধারনা হতে জন্ম নেয় বহুমাত্রিক বিপণন পদ্ধতি বা মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতি। আমরা বিপণন বা মার্কেটিং এর বিভিন্ন ধরণ বা কৌশল দেখে থাকি বিশেষ কয়েকটি ধরণ হলোঃ 

(ক) সরাসরি বিপণন পদ্ধতি (Direct Selling) 
(খ) ট্রেডিশনাল পদ্ধতি (Traditional System) 
(গ) টেলি মার্কেটিং (Tele Marketing) 
(ঘ) ইন্টারনেট মার্কেটিং (Internet Marketing)ইত্যাদি। 

যে কোন বিপণন পদ্ধতির চেয়ে এমএলএম পদ্ধতির বেশ কিছু পার্থক্য লক্ষ্যণীয় তম্মধ্যে অসংখ্য মানুষেরঅংশগ্রহণের বিষয়টি অন্যতম অর্থাৎ যেখানে ক্রেতাই পরিবেশক বা কোম্পানীর প্রতিনিধি হিসেবে কাজের সুযোগ পায়। মধ্যস্বত্বভোগীদের সংখ্যা কমিয়ে বা এড়িয়ে কোম্পানী কর্তৃক লাভের অংশ কিংবা মার্কেটিং খরচ সাশ্রয় করে সাধারণ ক্রেতা বা পরিবেশকদের মাঝে বন্টন করা হয়,ক্রেতা বা পরিবেশকগণ টীম বা দল গঠন করে নিজেদের বিক্রয় বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়। এভাবে অসংখ্য মানুষ পার্টটাইম বা ফুল টাইম আয়ের পথ হিসেবে এ পদ্ধতিকে বেছে নেয়ার সুযোগ পায় সংক্ষেপে আমরা দেখব কেন এমএলএম ব্যবসাকে জনকল্যাণকর বলা হয়ে থাকেঃ
  1. এমএলএম ব্যবসায় সরাসরি ক্রেতাগণ জড়িত থাকে বিধায় ক্রেতারা নিজেদের পছন্দসই পণ্য বেছে নেয়ার সুযোগ পায়
  2. এমএলএম ব্যবসায় পণ্য বিক্রয়ের উপর কমিশন অর্জন করা যায় বিধায় অসংখ্য মানুষ এ ব্যবসা হতে আয়ের সুযোগ পায়
  3. টীম বা দল গঠন করে দীর্ঘমেয়াদী ও রয়েলটি আয়ের সুযোগ থাকে বিধায় মাল্টিলেভেল বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিকে অনেকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে কর্মসংস্থান খুজেঁ পেয়েছে
  4. ট্রেডিশনাল কোম্পানীগুলো সামাজিক দায়িত্বপালনে (Social Responsibility) সচরাচর জড়িত থাকে কিন্তু নেটওয়ার্ক বা এমএলএম কোম্পানীগুলো সামাজিক দায়িত্বপালন অত্যাবশ্যক কারণ ক্রেতাসন্তুষ্টিই এমএলএম ব্যবসা মূল লক্ষ্য
  5. এমএলএম কোম্পানীগুলো সরাসরি পণ্য উৎপাদন ওবাজারজাতকরণে জড়িত যার দরুন ব্যবস্থাপনা ও ক্রেতা-পরিবেশকদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত ও অভিযোগসমূহ নিষ্পত্তি হয়ে থাকে

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিগত দুর্বলতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

নেটওয়ার্ক মার্কেটিং 

পদ্ধতিগত দুর্বলতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট  


মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এম এল এম) বা ডিরেক্ট সেলস ব্যাবসা বেশ জাঁকিয়ে বসেছে আমাদের দেশে। আর এদের প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে দেশের লক্ষ্ লক্ষ মানুষ। অত্যন্ত লোভনীয়, অকল্পনীয়, অফার আর অল্পদিনে কোটি পতি হবার স্বপ্ন নিয়ে ঝুঁকছে দেশের হাজার হাজার বেকার যুবক। শুধু বেকার যুবকই নয়, অনেক শিক্ষিত কর্ম জীবী লোকজন ও ছুটছে এই ব্যবসার দিকে। আলাদীন এর যাদুর প্রদীপ এর মত রাতা রাতি কোটিপতি হতে কে না চায়! কিন্তু আমাদের দেশের এম এল এম ব্যাবসা যেই ভাবে এগুচ্ছে তাতে করে এর ভয়াবহতা আমরা ইতি মধ্যেই টের পেয়েছি।
প্রতিটি আবিষ্কারের ভাল-মন্দ দুটি দিক রয়েছে তবে তা নির্ভর করে মানুষের ওপর। তেমনি বিভিন্ন পদ্ধতি, কৌশল কিংবা গবেষনালব্ধ বিষয়বস্তুর ইতিবাচক ব্যবহার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পূর্বশর্ত। আমরা সাধারণত উন্নত বিশ্ব হতে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে আছি এর অন্যতম কারণ নতুন প্রযুক্তি ও পদ্ধতি ব্যবহারে অনীহা ও অজ্ঞতা। আর আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি আধুনিক প্রযুক্তিরঅপব্যবহারের  দরুন।
এবার মূল কথায় আসি, নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতি সমগ্র বিশ্বে একটা ভালো অবস্থান তৈরী করতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশে এর অবস্থান বিপরীত কেন? এর মূল কারণ গুলো হচ্ছে প্রধানত নিম্নরূপঃ

১। ৬/৮ মাসে বিনিয়োগ ক্রিত অর্থের দিগুন দেওয়ার প্রতিস্রুতি প্রদান করা, যা যে কোন কম্পানির জন্য অত্তান্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

২। ম্যাচিং এবং ডিরেক্ট সেলস কমিশন১০% বা তার আধিক প্রদান করা, যার মাধ্যমে কম্পানির দক্ষ নেটওয়ার্কাররা বিনিয়োগ ক্রিত টাকার আনেকটাই দক্ষ নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে তুলে নিতে সক্ষম হয়।
৩।  এখানে সুযোগ সন্ধানী, জোচ্চোর মানুষ অসংখ্য, যারা আনবরত কিছু নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ নিয়ে গেম্বলিং করে যাচ্ছে।
 
অতীতের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় প্রতিষ্ঠান গুলো আগে থেকে কোন প্রজেক্ট না করে শুধু মাত্র একটি নাম মাত্র সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যবসায় শুরু করে দেয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রথম বিনিয়োগ গুলো কোন উৎপাদন মূলক খাতে বিনিয়োগের পরিবর্তে, কম্পানির পরিচালন খাতে ব্যয় হয়ে যায়। এই কারনেই কম্পানি গুলোকে সঠিক সময়ে বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্ত কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে সমস্যা হয়েছে।
সারা বিশ্বে জনপ্রিয়তা পা্ওয়া একটি বিপণন পদ্ধতি বাংলাদেশে এসে প্রতারণা ফাঁদ হিসেবে আখ্যা পেল। ধিক্কার দিই তাদের যাদের কারণে আজ এমএলএম শিল্প প্রশ্নের সম্মুখীন, অভিশপ্ত তারা, অভিশপ্ত তাদের অনুসারীরা। লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষ বাংলাদেশের এমএলএম নাম ভাঙ্গানো প্রতারক ব্যবসায়িদের কবলে পড়ে এখন বিপর্যস্ত।

বস্তুতপক্ষে কারো সাহায্যই প্রয়োজন নেই যদি বিবেকবান মানুষগুলো একত্রিত হয়, যারা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত আছেন তারা সোচ্চার হয়। আমরা শুধু ভুল আর ভুল করেই যাচ্ছি, আর এ ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ গ্রাহক/ক্রেতাদের। নেটওয়ার্ক মার্কেটিং পদ্ধতিটিকে জটিল করে না তোলে খুব সহজে ভাবুন এর চেয়ে চমৎকার বিপণন পদ্ধতি দ্বিতীয় কোনটি হতে পারেনা। বর্তমান সময় হচ্ছে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর হাই টাইম সুতারাং ভুল পথে পাঁ না বাড়িয়ে সঠিক পথ বেছে নিতে হবে।

ইতিপূর্বে বিভিন্ন মাল্টি লেভেল মার্কেটিং বা (এম এল এম) কোম্পানির ব্যবসায় পরিচালনায় পদ্ধতিগত দুর্বলতা ও ব্যবসায় আসফল হওয়ার কারনগুলো বিবেচনা করে বর্তমানে কিচ্ছু কোম্পানি নতুন ভাবে এই ব্যবসায়কে গড়ে তুলার চেষ্টা করছে। আমাদের সকলেরই উচিৎ দেশ ও জাতির কল্লানে এই ব্যবসায়কে ব্যবহার করা। এক্ষেত্রে বর্তমানে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে এমন কোম্পানি গুলোকে আমাদের সকলের সহায়তা করা উচিৎ।

Monday, July 29, 2013

জানার কোনো বয়স নেই

আমাদের দেশে এখন ভিক্ষুক আর ব্লগার এর সংখ্যা প্রায় সমান .......
keyboard দিয়ে দুই চারটা ওয়ার্ড লিখতে পারলেই ব্লগার হওয়া যায়না . 
ইদানীং আমি দেখছি ... কিছু লোক কিছু কিছু বিষয়ে না জেনেই উল্টা পাল্টা পোস্ট করে যাচ্ছে .... তারমধ্যে network marketing এর অন্যতম ...
আরে ভাই নেটওয়ার্ক মার্কেটিং একটা বিশ্বজুরে স্বীকৃত একটি পদ্ধতি , এবং এই সাবজেক্ট এর ওপর অনার্স মাস্টার্স কোর্স আছে ... আপনাদের মনে সন্দেহ থাকলে খুজ খবর নিয়ে দেখতে পারেন ..
আমার কথা হলো যে বিষয়ে ওপর অনার্স মাস্টার্সে পড়াশুনা আছে সেই বিষয়ে আপনারা কেন আজে বাজে পোস্ট লিখেন ??
আপনার যদি ভালো না লাগে এই সিস্টেম আপনি কাজ করার দরকার নাই ....
ডাক্তার সবাই হয় না... 
না হয় সবাই ইঞ্জিনিয়ার ....
যার যার বেক্তিগত বেপার ....
why you talk about another person ??

আমি একটা example দেই  ...
আমরা উকিল পেশ্জিবিদের ভালো করে সবাই চিনি তাই না ....
আচ্ছা একজন raper কিংবা killer যদি কোনো উকিল এর নিকট যায় তার বা আসামির পক্ষে উকালতি করার জন্য ...  উকিল কি তার মক্কেলকে  ফিরিয়ে দেয় ?
কখনোই না ... ওই উকিল সে যতো রকমের চেষ্টা আছে সব করে সে তার মক্কেলকে নির্দোষ প্রমান করে আসামিকে বের করে আনে .... প্রকাস্য দিবালোকে .... কই আমিতো আজ পর্যন্ত কোনো উকিল এর বিরদ্ধে কথা বলতে দেখি নাই কাওকে ? 
আরে ভাই network marketing করে বেকার কিছু পোলাপাইন আপনারা কেনো তাদের পেটে লাথি দেন ?
তারাতো মানুষের কাছে মাত্র ৫-৭ হাজার টাকার পণ্য বিক্রয় করছে .... তারাতো একটা পদ্মা সেতুর টাকা হাতিয়ে নেয় না ...
না করে আদম পাচার ....
১০-১৫ লক্ষ টাকা দিয়ে ইতালি আমেরিকা নিয়ে যাবার কথা বলে না ......
সবাইকে আমার অনুরুধ  কোনো বিষয়ের উপর না জেনে মন্ত্বব্য করবেন না ....
কারণ জানার কোনো বয়স নেই  .
ধন্যবাদ  
Kazi ashraful Islam 
International networker

বিশ্বের সবচেয়ে ধনবান ব্যক্তি নেটওয়ার্ক খোঁজে এবং গড়ে তোলে, বাকিরা শুধুই কাজ খোঁজে।”


আমেরিকার বিখ্যাত ধনকুব রবার্ট টি কিয়োসাকি বলেন, “ আমার ধনবান বাবা বলতেন,‘ বিশ্বের সবচেয়ে ধনবান ব্যক্তি নেটওয়ার্ক খোঁজে এবং গড়ে তোলে, বাকিরা শুধুই কাজ খোঁজে।”



কথাটা এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে পুরোপুরি সত্য প্রমানিত হয়েছে। আমাদের স্কুল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় গুলো শেখায় আমরা কিভাবে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অন্যের চাকুরী করে টাকা রোজগার করতে হয়। কিন্তু টাকা কিভাবে আমাদের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে তা আমাদের শেখায় না। এম এল এম এ দেখা যায় টাকাই আপনার জন্য খাটে।





এম এল এম বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং সম্পর্কে তিনি আরো বলেন,“ ধনী হয়ে ওঠা এমন সহজ আগে কখনই ছিল না। একটি সফল ব্যবসা গড়ে তুলতে যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন তা আয়ত্ত করতে আমার ৩০ বছরেরও বেশি সময় লেগেছে, ব্যবসায় দুবার অসফলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। যারা নিজের আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণে আনতে চায় তাদের সকলের জন্য নেটওয়ার্ক মার্কেটিং ইন্ডাস্ট্রি প্রস্তত করেছে এক রেডিমেড ব্যবসা পদ্ধতি”



পাঁচটি বেস্ট সেলার বই এর লেখক এ্যালান পীজ্ বলেন,“ ১৯৮০ সালে যখন আমি প্রথমবার মার্কেটিং নেটওয়ার্ক এর সাথে পরিচিত হলাম, আমি স্তম্ভিত হয়ে গেছিলাম এই ভেবে যে এখানে কত অভাবনীয় সুযোগ থাকতে পারে যেটা সহজ, নৈতিক , আইনগত এবং মজার ফলদায়িক। আর এটা কোন চটপট বড় লোক হওয়ার কোন যোজনা নয় , বড়লোক হবার একটা পদ্ধতি। 



মাল্টি লেভেল মার্কেটিং ( এম এল এম) বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং কি?



প্রচলিত পদ্ধতিতে কোন পন্য কম্পানি থেকে উৎপাদিত হয়ে এজেন্ট, পাইকার বিক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা এর হাত ঘুরে আমাদের ভোক্তা পযার্য়ে পৌঁছায। এই ক্ষেত্রে ভোক্তা শুধু পন্যটি ভোগ বা ব্যবহারই করতে পারে। এর বেশি কিছু পায় না। আবার আমরা যারা কোন ব্র্যান্ডের পন্য ব্যবহার করে ভাল হলে অন্য বন্ধুকে বলি যে অমুক জিনিষটা ভাল। এই ক্ষেত্রে আমরা কিন্তু সেই ব্র্যান্ডের মার্কেটিংটা করে দিচ্ছে কিন্তু এর বিনিময়ে সেই কোম্পানি আামাদের কে কিছুই দিচ্ছে না।



যেই ব্যবসা পদ্ধতিতে কোন কোম্পানির উৎপাদিত পন্য এজন্ট, পাইকার বিক্রেতা ও খুচরা বিত্রেতার মাধ্যেমে না এসে সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছায় এবং যেই ব্যক্তির মারফত সেটা পৌছায় বা যার রেফারেন্সে কোন ব্যক্তি পন্য ক্রয় করে কমিশন লাভ করে একটা স্থায়ী আয়ের পথের সূচনা করে তাকে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বলে।



মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বা বহুমাত্রিক বিপণন পদ্ধতি আধুনিক বিপণন পদ্ধতির মধ্যে একমাত্র পদ্ধতি যে পদ্ধতিতে ক্রেতা বাা ভোক্তাদের বিভিন্ন স্তরে অথবা নিয়মিত কমিশন প্রদান করা হয়।

এই পদ্ধতি তে কোন ক্রেতা পরিবেশক ( ডিস্ট্রিবিউটর) নূনতম দুইজন নতুন ডিস্ট্রিবিউটর সৃষ্টির মাধ্যমে আজীবনের জন্য একটা স্থায়ী আয়ের পথের সূচনা করতে পারেন। তিনি নতুন যে দুজন ডিস্ট্রিবিউটর সৃষ্টি করবেন তারা সারা জীবন যে আয় করবেন সেই আয়ের কমিশন প্রথম ডিস্ট্রিবিউটর সারাজীবন এমন কি তার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধীকারী ভোগ করতে পারবেন। 



এম এল এম কারা করতে পারবেন?

সহজ কথায় যে সুস্থ মস্তিষ্কের ব্যক্তি বাংলাদেশের ভোটার

লেখকঃ মজিদ বিশাস

Friday, July 26, 2013

এমএলএম এর এখন দুটি পক্ষঃ বুঝার দল আর না বুঝার দল



‘দাদার হাতে কলম ছিল ছুড়েঁ মেরেছে, উহ্ বড্ড লেগেছে’ এই লাইনটি এখন আমার তিন বছরের ছেলের মুখেও মাঝে মাঝে শুনি। আমার সম্মানিত সাংবাদিক দাদাদের কলমের গুতা খেতে খেতে নেটওয়ার্কারদের মুখে মুখে এখন ‘দাদার(সাংবাদিক)হাতে কলম ছিল লিখে দিয়েছে, উহ্ বড্ড ক্ষেপেছে’। দীর্ঘ দিনপর আবার আজ লিখতে মনে হলো দাদাদের লেখা পড়ে(গতকালের), যেটুকু মনের ভেতর আছে তা পুরো লিখলে হয়তো প্রশান্তি লাভ করতাম কিন্তু তা ভেতর থেকে বের হয়ে আসে না। ভাল আর মন্দের তফাৎ যে জানেনা তার লেখার অধিকার নেই, যে মন্দকে ভাল হওয়ার সুযোগ দেয়না তার বলার অধিকার নেই। এদেশে এমএলএম বন্ধের আইন হচ্ছে না, হচ্ছে এমএলএম এর নাম দিয়ে জুয়াবাজি আর প্রতারণা বন্ধের আইন। অল্প দুঃখে মানুষ কাঁদে আর অতি দুঃখে মানুষ কাঁদতে পারেনা মনে হয় বুকটা চিঁড়ে প্রানটা বেরিয়ে যাবে।যারা এমএলএমকে ভালবাসে তাদের কান্না ভেতরেই থেকে যাচ্ছে আর যারা দু’নম্বর এমএলএম করে তারা গুনগুন করে কাঁদে কারণ তারা কামাইতে পারতো ১ কোটি কিন্তু কামাইছে ১০লাখ।

ঝড়ের মতো তছনছ করে দিল আমার সব স্বপ্ন, এগার বছর ধরে লড়ছি এ এমএলএম এর জন্য। কখনো বুঝিয়ে কখনো শিখিয়ে কখনোবা লিখে। আমি দেখেছি সামান্য ক’টা টাকা কমিশন হিসেবে পেয়ে যেমন লাফ দিয়ে জড়িয়ে ধরে তা ভুলার নয়। আপনাকে উপলব্দি করতে হবে তাদের আনন্দ আর উল্লাস আর তাদের বেদনা। আমরা ভালকে যেমন উপলব্দি করতে চাইনা তেমনি খারাপকে ভালো হওয়ার সুযোগ দিইনা। এমএলএম মানে আরেকজনের গাছের কাঁঠাল চুরি করে এনে দলবদ্ধভাবে খাওয়া নয়, এমএলএম মানে নিজের কাঁঠাল সবাইকে নিয়ে খাওয়া, যেখানে খাওয়ার জন্যও ট্রেনিং নিতে হয়। যারা ইউনিপে, স্পীক এশিয়া, রেভনেক্স, ডুলেন্সার ও ডেসটিনিসহ আরো বেশ কিছু কোম্পানী করেছে তারা পুরো কাঁঠাল গাছটাকেই তুলে এনেছে যে গাছে আর কখনো ফল আসবে না। আমি এমএলএমকে দু’দলে ভাগ করেছিঃ বুঝার আর না বুঝার দল।

ক. বুঝার দলে যারা আছেন- ১. যারা এমএলএমকে ভালবাসেন

                                           ২. যারা এমএলএম এর ভাল ও খারাপ যাচাই করতে পারেন

                                           ৩. যারা এখনো ভাল কোন এমএলএম প্রতিষ্ঠানের অপেক্ষমান

                                           ৪. যারা এখনো কিছুই শুনেনি, কিছুই জানে না।

খ. না বুঝার দলে আছেন-  ১. যারা এমএলএমকে ভালবাসে (শুধু টাকার জন্য)

                   ২. যারা ভাল ও খারাপ যাচাই করে না

                   ৩. যারা অনেকগুলো এমএলএম ফার্মের সদস্য

                   ৪. যারা না বুঝে পত্রিকায় লিখে

আমি আবারো দুঃখ প্রকাশ করছি, সমবেদনা প্রকাশ করছি তাদের জন্য যারা এমএলএম এর নাম দিয়ে ভূয়া কিছু প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হারিয়েছে। আমরা জানি একজন মানুষ কখনো আরেক মানুষের ক্ষতির কারণ হতে পারে না একমাত্র মানুষরুপী শয়তানই তা পারে।

আমি আবারো সেইসব লিডার ও নেটওয়ার্কারদের দোষারোপ করবো যারা জেনেও না জানার ভান করছে বুঝেও না বুঝার ভান করছে। যেখানে মানুষের সামান্যতম ক্ষতির সম্ভাবনা আছে সেপথে না গেলেই কি নয়। অর্থের জন্য দশজনের ভাগের কাঁঠাল একজনের হাতে তুলে দিলেই কি লিডারের দায়িত্ব পালন হয়ে যায়। মনে রাখবেন এসব ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের দ্বায়ভার কখনো রাষ্ট্র নিবে না কারন এটা শেয়ার বাজার নয় যেখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব থেকে যায়। দু’নম্বর এমএলএম ব্যবসায় বাবার প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা এনে নামতা পড়তে পড়তে কোটিপতি হয়ে যাবার জের বাবার মৃত্যু। আসুন আমরা আরো ভাল বুঝে নিই, ভুল পথ থেকে মানুষকে দূরে রাখি, নিজের যা কিছু আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকি, পরের কল্যাণ কামনা করি, মানুষের মিষ্টি কথায় কান না দিয়ে আগে যাচাই করি, লোভ আর সুদ থেকে দূরে থাকি। আমীন।

এম. রহমান আরিফ

(বিঃদ্রঃ আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে আরো আবোল তাবোল লিখতে পারি।)